সাম্প্রতিক
নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী দিল্লিতে শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল, নেপথ্যে কী? দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হাতছাড়া মমতার ব্যবসায়ীদের চাপে ‘গুজরাটের ইলিশ’ আমদানি, জানত না মন্ত্রণালয় বাজারে উধাও ১ লিটারের সয়াবিন, খোলা তেলের দামও চড়া গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়া বিএনপি এখন তা চায় না: নাহিদ ইসলাম পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট: সরকারি ভোজ নিষিদ্ধ ও বিয়ের দাওয়াতে এক পদ গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৯ মার্চ লবণাক্ততায় হারাচ্ছে সুন্দরবনের ঔষধি গাছ, বিলুপ্তির পথে ভেষজ চিকিৎসা ও জ্ঞান
Skip to content

আন্তর্জাতিক গবেষণা

বাংলাদেশের পোলট্রি মাংসে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। নতুন এক গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের মুরগির মাংসে এ ধরনের উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অতিরিক্ত অবশিষ্টাংশ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পোলট্রি নিউজ। গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গবেষণার নেতৃত্ব দেন রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড।

গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এসব নমুনার একটি অংশ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের উপযোগী পোলট্রি ফার্মের মুরগি থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নমুনাগুলোতে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। বিশ্লেষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এ হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ। গবেষকদের মতে, প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগের পর নির্ধারিত অপেক্ষাকাল অনুসরণ না করলে জবাইয়ের পরও মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু নমুনায় পাওয়া ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্তও কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় নিরাপদ সীমার বেশি অবশিষ্টাংশের ঘটনা খুবই বিরল হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সচেতনতা ও নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।

এনএনবাংলা/