সাম্প্রতিক
স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া ভারতে পলাতকরা যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন উপনির্বাচনে থাকবে সেনাবাহিনী, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ মৃত্যু, জুলাইয়ের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে ইরানে মার্কিন হামলায় ‘যুদ্ধাপরাধের’ তথ্য পেল জাতিসংঘ, কাঠগড়ায় তেহরানও সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মুনাফা সামান্য বাড়াল সরকার, মিলবে যেসব সুবিধা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি পশ্চিমবঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’-‘ইনশাআল্লাহ’ বলার বিতর্কের মধ্যে নারী মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ
Skip to content

দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হাতছাড়া মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার গড়াল দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক হারানোর পর্যায়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং দীর্ঘদিনের ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দেওয়ার একদিন পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দলটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে পৃথক অন্তর্বর্তীকালীন নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করেছে।

ফলে আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে প্রায় তিন দশকের পুরোনো তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না কোনো পক্ষই। বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও অন্যান্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মমতার শিবিরে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’, বিদ্রোহীদের ‘খাম’

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেবে। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করবে।

তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, নতুন নাম ও প্রতীকগুলো অন্তর্বর্তীকালীন। তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এগুলো উপনির্বাচনের জন্য কার্যকর থাকবে। মূল দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।

২৮ বছরের রাজনৈতিক পরিচয়ে বড় ধাক্কা

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর থেকে ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকটি দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। গত ২৮ বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলটির বিস্তারের সঙ্গে প্রতীকটিও ভোটারদের কাছে তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত চিহ্নে পরিণত হয়।

কিন্তু দলীয় বিরোধের জেরে এবার উপনির্বাচনের ব্যালটে সেই পরিচিত প্রতীক থাকছে না। ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন উভয় পক্ষকেই মূল দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে বিকল্প নাম ও প্রতীক জমা দিতে বলেছিল।

নির্বাচনের পর শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের আইনসভা ও সাংগঠনিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। পরে সেই বিরোধ দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের প্রশ্নে গড়ায়।

জুনে বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে এবং স্পিকারের স্বীকৃতি আদায় করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর দলীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়।

কমিশনের সিদ্ধান্তে মমতা দলের আপত্তি

নির্বাচন কমিশনের নাম ও প্রতীক স্থগিতের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। দলটির সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্তটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘আইনের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি কমিশনের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমরা এটি গ্রহণ করছি না।’ তার দাবি, আদেশটিতে একাধিক আইনি দুর্বলতা রয়েছে এবং ঘটনার তথ্যও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তবে উপনির্বাচনের বাস্তবতার কারণে সাময়িকভাবে কমিশনের নির্ধারিত নতুন পরিচয় মেনে নিতে হতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

পুরোনো প্রতীক ফেরত পাওয়ার আশাবাদ বিদ্রোহী পক্ষের

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও তারাও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকটি চেয়েছিল বলে জানিয়েছে।

বিদ্রোহী পক্ষের নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চিফ হুইপ আখরুজ্জামান আনসারি বলেন, তারা কমিশনের আদেশ মেনে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে পুরোনো প্রতীক পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপনির্বাচনে এই পক্ষ ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

এদিকে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দুই দলকেই এখন নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রচারে যেতে হবে। মূল দলের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

এনএনবাংলা/