সাম্প্রতিক
একনেকে ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা রামপালের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ: বাড়ছে লোডশেডিং, এখনো পৌঁছায়নি ভারতীয় প্রকৌশলী ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাচ্ছে ট্রাম্প আনিসুলের ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, ৭৩৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট-গাড়িসহ সম্পদ জব্দ, ১৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার ডিসি প্রত্যাহার ১৮ দিন পর ব্যাগ-মোবাইলসহ ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি করল ডিবি একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে নতুন রেকর্ড
Skip to content

স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করতে নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসব পরিবর্তনের আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ‘ভিসা হপার’ ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্যও বিভিন্ন নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারবেন না। দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে চাইলে তাদের উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথে এগোতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন, এমন ব্যবস্থা আর রাখা হবে না।

তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য নিয়মে কিছু ছাড় থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিতে পারবেন। বার্ক বলেন, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জীবন ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কারা আসেন, কারা থেকে যান এবং কারা চলে যান’ শিরোনামের এক বক্তৃতায় এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন বার্ক। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।

‘ভিসা হপিংয়েও’ কঠোর হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা হপিং’ বা ঘন ঘন ভিসা পরিবর্তনের প্রবণতাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সাধারণত একটি কোর্স শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা আরেকটি কোর্সে ভর্তির আবেদন করলে সেটিকে ভিসা হপিংয়ের আওতায় দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কোর্সটি আগের কোর্সের চেয়ে নিম্নমানের যোগ্যতার হয়ে থাকে। এমন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির চেষ্টাও করা হয়, যার বৈধতা বা মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে যারা উচ্চতর শিক্ষার দিকে এগোতে চান, যেমন স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বার্ক।

ব্যাকপ্যাকারদের ভিসাতেও পরিবর্তন

১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের জন্য প্রযোজ্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত ব্যাকপ্যাকাররা এই ভিসা ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় ১২ মাস কাজ করার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগও রয়েছে। দেশটির কৃষি খাতেও এই ভিসাধারীরা গুরুত্বপূর্ণ শ্রমের উৎস।

বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের ভিসার যোগ্য হতে হলে প্রথম বছরে অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকায় তিন মাস কাজ করতে হয়। তৃতীয় বছরের জন্য কাজ করতে হয় ছয় মাস। নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের ভিসার যোগ্যদের একটি ব্যালট বা লটারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার জন সুযোগ পাবেন, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার।

তৃতীয় বছরের ভিসার ক্ষেত্রে সুযোগ আরও কমিয়ে ৫ হাজার করা হয়েছে। গত বছর ৩১ হাজার মানুষ তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্য হয়েছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ ওয়ার্কিং হলিডে-মেকাররা এসব পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।

বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি শক্তি বা ইতিবাচক দিক হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।

বাড়ছে জনসংখ্যা, আলোচনায় অভিবাসন

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। জন্ম ও মৃত্যুর হিসাবের পাশাপাশি এ সময়ে নিট অভিবাসন হয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিবাসন দেশটির বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী দল ‘ওয়ান নেশন’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের অভিবাসন নীতি প্রকাশ করেছে। এতে তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসী ভিসার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে নিম্নকক্ষে দলটি তাদের প্রথম আসন জয় করে।

দলটি নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বার্ক এ প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির কিছু অংশ ‘ধ্বংসের মুখে’ পড়তে পারে।

পারিবারিক ভিসাতেও অগ্রাধিকার বদল

জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার একটি নীতি চালু করে। এর আওতায় বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের করা পারিবারিক ভিসার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একইভাবে বিদেশে অবস্থানরতদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় আগে থেকেই বসবাসরত দক্ষ অভিবাসীদের স্থায়ী ভিসার আবেদনকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ছাড়া ২৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভায়োলেট রুমেলিওটিস বলেন, অভিবাসনবিষয়ক বিতর্কটি এখন দেশের জন্য যা সর্বোত্তম, তার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে এর বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে ভবিষ্যতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এনএনবাংলা/