রামপালের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ: বাড়ছে লোডশেডিং, এখনো পৌঁছায়নি ভারতীয় প্রকৌশলী

বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও লোডশেডিং বেড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাগেরহাটের গ্রাহকেরা।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি জটিলতার কারণে গত রোববার সকালে ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইউনিটটি বন্ধ থাকায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
এদিকে ত্রুটি নিরসনে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তারা রামপালে এসে পৌঁছাননি। ফলে ২ নম্বর ইউনিটের মেরামত শেষ করে ঠিক কবে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
অফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে। কয়লার সংকট না থাকায় কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। তবে বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণে হঠাৎ করেই ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ভারতীয় প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরই মধ্যে দেশীয় প্রকৌশলীরা বয়লারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে কেন্দ্রটি ঠিক কোন দিনে শতভাগ উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
রামপাল কেন্দ্রের একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাগেরহাটজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রভাব পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে ২ নম্বর ইউনিটকে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
এনএনবাংলা/
