সাম্প্রতিক
এআইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. হাসানুল এ. হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আবেদীন ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই ৬০ প্রাণহানি যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, ফার্স্ট মিনিস্টারদের চুক্তি বিদ্যুতে লুটপাট: ১৭ বছরে পরিশোধ ২,৮৯,৯৪৯ কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ! ডাকসুতে জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: ঢাবি কর্তৃপক্ষ ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিনকে মেয়র প্রার্থী করল জামায়াত ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার হরমুজ বন্ধের খবরে তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, আতঙ্কে পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬ টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায় ভারত
Skip to content

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ দলটির শীর্ষ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সশস্ত্র হামলা, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো কর্মকাণ্ডেও তাদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ আনা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

২০২৫ সালের ১৮ জুন এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও ছিল।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। এরপর ৪ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক শেষ হয় ১৭ আগস্ট। একই দিন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। মামলায় মোট ১২৩ সিরিজের নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল তাঁদের আদেশে উল্লেখ করেন, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে যে নির্মম গণহত্যা ও নিপীড়ন পরিচালনা করা হয়েছিল, তার দায় তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ তৎকালীন দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উসকানিমূলক বক্তব্য, উসকানিমূলক বিবৃতি প্রদান ও আদেশ বাস্তবায়নে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। রায়ে আরও নির্দেশ দেওয়া হয় যে, দেশের বাইরে বা ভেতরে পলাতক এসব আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দণ্ড কার্যকর করার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এনএনবাংলা/এফএস