সাম্প্রতিক
‘নাইন ইলেভেন’-যে দিনের পর বদলে গেছে মুসলিমদের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে সাধারণ মানুষ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ল লোডশেডিং গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল; ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ২ ভারতের সঙ্গে হাসিনার ১০১ চুক্তিতে ‘দেশের স্বার্থ’ খুঁজছে সরকার: চিফ হুইপ এইচ-১বি ভিসায় ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের উদ্যোগ ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম দেশে অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্মার্টফোন উৎপাদন, পাওয়া যাবে ২–৩ হাজার টাকায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু আজ

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপ রাজধানী ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই কয়েক শ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, বাড়ছে মৃত্যুও। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ (শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার এ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। শিক্ষার্থীদেরও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে যুক্ত করার কথা রয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছে। এই জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালী। তবে মশা নিধন সংক্রান্ত তৎপরতা প্রধান শহরগুলোর সিটি করপোরেশনকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও গ্রামীণ জনপদে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।

সরকারি হিসাবেই এ পর্যন্ত রোগটি নিয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত সাড়ে ৮ মাসে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ১৪১ জনের। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ৭২ জন।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু বেশি হওয়ার পেছনে বিশেষজ্ঞদের ধারণা জনঘনত্ব, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সবচেয়ে বেশি দায়ী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪১ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৫০ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করছে। বিশেষ করে ঢাকায় মৃত্যুর হার বেশি হওয়া আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। শুধু মশা নিধন বা ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে উৎস ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা হঠাৎ সংকটাপন্ন হতে পারে; তাই চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদেরও সতর্ক থাকতে হবে। ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের গত সাড়ে ৮ মাসে ডেঙ্গুতে ১৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে । তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে পাঁচজনের বেশি মারা গেছেন ঢাকায়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য জেলায় মারা গেছেন ৭২ জন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে খুলনা বিভাগ। সেখানে মারা গেছেন ২৫ জন। ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০ ও রাজশাহীতে ছয়জন মারা গেছেন। রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

এনএনবাংলা/এফএস