সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে ‘অর্জনের এজেন্ডা’ ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’ জল্পনার অবসান, ৭ বছর পর ভারত সফরে শি জিনপিং বিলুপ্ত হলো র‌্যাব, সংসদে পাস ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বিল মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৪৯২ নিরপরাধ কেউ চাকরিচ্যুত হয়নি, ৮৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি ব্যাংকের ৮২% খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ ব্যাংকে
Skip to content

ছুটির দিনের বাজার-সদাই

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে সাধারণ মানুষ

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে টমেটো, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচ, চিনি ও সয়াবিন তেলের দামও বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

বাজারে বাড়তি দামে ডিম-মুরগি

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজভেদে এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। এর আগে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এই মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

সোনালি মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে।

বাড়ছে মাছের দামও

মাছের বাজারেও কয়েক ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত মার্চে তেলাপিয়ার দাম ছিল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং পাঙাশের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রতি কেজি রুই-কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই

টমেটোর পাশাপাশি সবজির বাজারেও স্বস্তি ফিরছে না। রাজধানীর কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পটল ৮০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া করলা ও শসা ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তেল-চিনির দামেও বাড়তি চাপ

এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।

এক মাস আগের তুলনায় খোলা চিনির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকা এবং মোড়কজাত চিনি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাসের বাজারে বাড়তি ৩-৪ হাজার টাকা

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। রাজধানীর রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কয়েক মাস আগেও বেতনের টাকায় টেনেটুনে সংসার চালাতে পারলেও গত চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

মিজানুর জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে তার পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হলেও এখন সেটিও বন্ধ। এরপরও সংসারের ব্যয় সামলাতে না পেরে প্রতি মাসে তাকে ঋণ করতে হচ্ছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ৬-৭ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৯-১০ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম, চিনি, তেল, মাছের দাম বেড়েছে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ আমার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এনএনবাংলা/