ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ সংসদে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সক্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জাতীয় সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ প্রতিবাদ জানান জহরত আদিব চৌধুরী। বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
পয়েন্ট অব অর্ডারে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি হয়তো পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। তবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। সংসদের বিশেষ ক্ষমতাবলে তিনি বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ চান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গুণী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন চলচ্চিত্রসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতালির ভেনিসে গিয়েছিলেন। সোমবার তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা জানান। বিভিন্ন মাধ্যমেও এ বিষয়ে জানা গেছে।
জহরত আদিব চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাঁধন তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্য ও ছোট সন্তানকে নিয়ে একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় তার দিকে কোল্ড ড্রিংকস ও পানি ছুড়ে মারা হয় এবং তাকে শারীরিক ও মৌখিকভাবে হেনস্তা করা হয়। অত্যন্ত খারাপ ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য বলেন, এর পেছনে একমাত্র কারণ হিসেবে বাঁধনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় এবং ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, একজন নারী এবং দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে না থাকলেও বিশ্বের যেকোনো জায়গায় তারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে এবং একজন নারীর ওপর হামলা চালাতে পারে।
জহরত আদিব চৌধুরী আরও বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতালির সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো মন্ত্রী বর্তমানে সংসদে উপস্থিত নেই। তবে পরে তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। সংসদ ও দেশের জনগণও জানতে চায়, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কাউকে বর্তমানে সংসদে দেখা যাচ্ছে না। তারা সংসদে এলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, এটি অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ। অপরাধের নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের একজন বা দুজন সংসদে উপস্থিত হলে তাদের বক্তব্য শোনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়।’
এনএনবাংলা/
