সাভারে এসআই আলতাফ হত্যা মামলায় মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার আরও ৪

সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মুন্সিগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে দুইজন এবং সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার জিহাদ ও আপন কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ১৫ আসামির সবাই কোনো না কোনোভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, এসআই আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়নি। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত ছিল। একটি অপরাধের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ঘটনাচক্রে হামলার শিকার হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আপন এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা। সে এসএস পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেনকে আঘাত করে। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় একটি ঝামেলা মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন এসআই আলতাফ। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁর কোনো কথাই শোনেনি। একপর্যায়ে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার রাতে একটি অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। এসময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পুলিশ পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। জীবন বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এনএনবাংলা/এফএস
