সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে ‘অর্জনের এজেন্ডা’ ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’ জল্পনার অবসান, ৭ বছর পর ভারত সফরে শি জিনপিং বিলুপ্ত হলো র‌্যাব, সংসদে পাস ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বিল মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৪৯২ নিরপরাধ কেউ চাকরিচ্যুত হয়নি, ৮৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি ব্যাংকের ৮২% খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ ব্যাংকে
Skip to content

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ল লোডশেডিং

২০১৭ সালে পিডিবি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ৮০০ মেগাওয়াটের এই ইউনিটটি বন্ধ হওয়ায় আগে থেকেই উৎপাদন ঘাটতিতে থাকা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বয়লারে ত্রুটি, বন্ধ ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের কাজ শুরু করতেই অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আর ইউনিটটি পুরোপুরি সচল করতে আরও কয়েক দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। এর পরপরই একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বয়লারে সমস্যার কারণেই মধ্যরাতের দিকে ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে।

আগেই কম ছিল গোড্ডার উৎপাদন

কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই কেন্দ্রটির উৎপাদনে এর প্রভাব পড়ে। আদানি কর্তৃপক্ষ এর আগে রেলপথে যানজট ও লোডিং বিধিনিষেধকে কয়লার স্বল্প সরবরাহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। অতিবৃষ্টির কারণেও কয়লার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সমস্যা হচ্ছিল।

গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেল।

২,৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে লোডশেডিং

দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যখন গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির তীব্র সংকটে উৎপাদন ঘাটতিতে রয়েছে, তখন গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে দেশে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। আদানির ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি বন্ধ থাকায় শুক্রবার লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে বড় ঘাটতি

সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

অন্যদিকে, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএনবাংলা/