গরম বাড়তেই গ্রাম থেকে শহরে ফের বেড়েছে লোডশেডিং

কয়েক দিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকার পর আবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও দুর্ভোগ।
শিল্প-ব্যবসায়ও বাড়ছে সংকট
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চলতি গরমে এক পর্যায়ে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। ওই সময় গড় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট স্মরণকালের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
তাপমাত্রা কমায় কমেছিল লোডশেডিং
চলতি মাসের শুরুতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসায় বিদ্যুতের চাহিদাও কমে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসে। এতে লোডশেডিংও কিছুটা কমেছিল। তবে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিংও।
গতকাল সোমবার দুপুর ৩টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সারাদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
এর আগের দিন রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ১২২ মেগাওয়াট। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮০৬ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং হয় ২ হাজার ২০২ মেগাওয়াট।
তবে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং ছিল না। ওই সময় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। যদিও এর আগে ও পরে লোডশেডিং হয়েছে। ওই দিন রাত ১টায় লোডশেডিং ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রাম ও শহর—দুই এলাকাতেই।
এনএনবাংলা/
