সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে ‘অর্জনের এজেন্ডা’ ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’ জল্পনার অবসান, ৭ বছর পর ভারত সফরে শি জিনপিং বিলুপ্ত হলো র‌্যাব, সংসদে পাস ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বিল মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৪৯২ নিরপরাধ কেউ চাকরিচ্যুত হয়নি, ৮৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি ব্যাংকের ৮২% খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ ব্যাংকে
Skip to content

‘অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতির এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ওই দিনের ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী দুজনের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার খোকনের অবস্থান সঠিক ছিল না। জবাবে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল! হু ইজ হি হেয়ার?’

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইনজীবীদের কথা বলব এবং বিচারপতিদের কথা বলব মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এর মধ্যে?’

তিনি আরও বলেন, ‘হি ইজ ইররেলেভেন্ট! তার বক্তব্যই ইররেলেভেন্ট! হি ইজ নোবডি ইন আওয়ার ডিসকাশন, ইন আওয়ার ডিমান্ড, অন আওয়ার ডিমান্ড! তার বক্তব্যটা অনভিপ্রেত।’

বার সভাপতি বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম! উনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন না? উনি কে? উনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আই অ্যাম সারপ্রাইজড, শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড!’

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে চলে যান।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

পরে ব্যারিস্টার খোকন সাংবাদিকদের বলেন, অন্য একটি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন।

তার ভাষ্য, ওই আইনজীবী একজন জুনিয়র আইনজীবী হওয়ায় তার ওপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি হয়ে গেছে। তাই জরিমানাটি মওকুফের অনুরোধ করেন তিনি।

খোকন বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থেই’ তিনি বিষয়টি প্রধান বিচারপতির সামনে তুলেছিলেন। তার মতে, মামলায় আইনজীবীর জয়-পরাজয় হতে পারে, কিন্তু একজন জুনিয়র আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি।

তিনি জানান, ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে তুলে ধরেন।

খোকন বলেন, ‘আমি প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

তার দাবি, আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝাতেই তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত মামলা শুনানি হতো। বর্তমানে একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে। এ ছাড়া চেম্বার আদালত থেকে কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ হলে পরবর্তী সময়ে সেটি শুনানির জন্য আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি বলেন, ওই মামলায় সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। অথচ মামলাটি এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও তিনি মামলাটি শুনানি করাতে পারেননি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি দাবি করে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলা তার দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমি তো চিন্তা করি নাই যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। উনার তো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আর লইয়ারদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমার অবলিগেশন আছে উনার কাছে লইয়ারদের পক্ষে আবেদন করার।’

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, জরিমানা মওকুফের অনুরোধের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আদালতের সঙ্গে ‘প্রতারণা এবং গুরুতর জালিয়াতির’ বিষয়টি বিবেচনা করেই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত সেই আদেশ পরিবর্তন করবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, এরপর আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি ব্যারিস্টার খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি কি বলতে চাচ্ছেন যে প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে?

কাজল বলেন, ব্যারিস্টার খোকন একই বক্তব্য আবার বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, তার ওই বক্তব্য ‘অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর আদালতে দিনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। পরে প্রধান বিচারপতি এজলাস থেকে উঠে যান।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকদের ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য হতে পারে। তবে সাধারণত তা আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।

এনএনবাংলা/