সাম্প্রতিক
‘নাইন ইলেভেন’-যে দিনের পর বদলে গেছে মুসলিমদের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে সাধারণ মানুষ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ল লোডশেডিং গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ভারতের সঙ্গে হাসিনার ১০১ চুক্তিতে ‘দেশের স্বার্থ’ খুঁজছে সরকার: চিফ হুইপ এইচ-১বি ভিসায় ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের উদ্যোগ ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম দেশে অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্মার্টফোন উৎপাদন, পাওয়া যাবে ২–৩ হাজার টাকায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

দেশে অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্মার্টফোন উৎপাদন, পাওয়া যাবে ২–৩ হাজার টাকায়

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন

আগামী অক্টোবর মাস থেকে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৫ কোটি নতুন ব্যবহারকারীকে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ডাটা সংযোগসহ স্মার্টফোনের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, কৃষক, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রায় ৭ কোটি মানুষ এখনো স্মার্টফোনের বাইরে

বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো ফিচার বা বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির মূলধারায় যুক্ত করাই সরকারের এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত একটি সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরিতে মোট উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এলসিডি স্ক্রিনে প্রায় ১৭ ডলার, মাদারবোর্ড ও প্রসেসরে ২৩ ডলার এবং ব্যাটারি ও কেসিংয়ে ১৫ থেকে ১৬ ডলার খরচ হবে।

ভর্তুকি ও কর সুবিধায় কমবে ফোনের দাম

উৎপাদন ব্যয় ৫৫ ডলার হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুতকারকদের অনুরোধে কাঁচামাল আমদানি ও কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ফোনগুলোর প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে প্রস্তুতকারকদের ভর্তুকির পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া ডাটা ও ভয়েস প্যাকেজ যুক্ত হলে একজন গ্রাহকের জন্য ফোনটির কার্যকর খরচ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নেমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে ডাটা ও ভয়েস

স্মার্টফোনের চূড়ান্ত মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে সরকার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটর এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে সমন্বিতভাবে সম্পৃক্ত করেছে।

তিনটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি ফোনের সঙ্গে প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে ডাটা ও ভয়েস প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রস্তুতকারকদের ভর্তুকি ও অপারেটরদের ডিজিটাল প্যাকেজ মিলিয়ে স্মার্টফোনের কার্যকর ব্যয় আরও কমে আসবে।

কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ

স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ইএমআই বা কিস্তি সুবিধার ওপর থাকা আগের বিধিনিষেধও তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে যেকোনো ব্যাংক গ্রাহকদের কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার আর্থিক সুবিধা দিতে পারবে।

উদ্যোগটির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিনিধিরা চার সপ্তাহেরও বেশি সময় চীনে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। সরকারও সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট সহায়তা ও ঋণ সুবিধা অনুমোদন করেছে।

২ কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য এসওএফ ব্যবহারের পরিকল্পনা

পাঁচ কোটি সাধারণ গ্রাহককে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনার পাশাপাশি চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড বা এসওএফ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী আনুমানিক ২ কোটি মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এই তহবিল কাজে লাগানো হবে। বর্তমানে এসওএফে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

১৮–২৪ মাসে শতভাগ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট কভারেজের লক্ষ্য

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশে শতভাগ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন কভারেজ নিশ্চিত করা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এখনো বাটন ফোন ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায় ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ফিচার ও দামের স্মার্টফোন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রথম পর্যায়ের কিছু স্মার্টফোন শিগগিরই বাজারে পাওয়া যাবে। তবে ডিলারদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিতরণ অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।