সাম্প্রতিক
Skip to content

মৃত্যুর পর কেন বরই পাতা দিয়ে গোসল দেয়া হয়?

ছবি: সংগৃহীত

কোনো মুসলমান মারা গেলে অপর মুসলমানের ওপর মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা, জানাজা বহন ও দাফন করার অবশ্যক হয়ে যায়। কেউ মারা গেলে দ্রুতই এই কাজগুলো সম্পাদন করতে হয়। হাদিসে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ফরজে কিফায়া।

কোনো শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপর যদি ইন্তিকাল করে, তাকেও গোসল দিতে হবে এবং এটা ফরজ। আর যদি মৃতাবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে গোসল দেওয়া ভালো; তবে ফরজ নয়। কোনো লাশ যদি লা-ওয়ারিস হয়, তাহলে তার গোসলের দায়িত্ব সব মুসলমানের। গোসল ছাড়া তার দাফন করা হলে, যারা জানে- তাদের সবাই গুনাহগার হবে।

তবে মৃতদেহকে সঠিকভাবে গোসল দেয়ার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুল বা বরই পাতা ও সাবান মিশ্রিত হালকা গরম পানি দ্বারা মৃত ব্যক্তির মাথা ও দাড়ি ধৌত করা। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কেন মৃত ব্যাক্তিকে বরই পাতা দিয়ে গোসল করানো হয়।

মৃত ব্যাক্তির গোসলের পানিতে বড়ই বা কুলপাতা দেয়া শরীয়ত সম্মত। অনেকে অবশ্য এটাকে ওয়াজিব বলে থাকে তবে এটা ওয়াজিব নয়। আলেমগণ হাদিসের নির্দেশকে মুস্তাহাব বলেছেন। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃতব্যক্তির গোসলের পানিতে বড়ই বা কুলপাতা দেয়া ইসলামি শরিয়ত সম্মত একটা রীতি। কেননা বরই পাতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য খুব কার্যকরী। যদি বরই পাতা না পাওয়া যায় তবে সাবান বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করাই যথেষ্ট। আর বরই পাতা মেশানো পানিতে গোসল করানো হলে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত আদায় হয়।

মৃতব্যক্তিকে বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল দেয়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের সময় তার উটনী থেকে পড়ে যায়। এতে তার ঘাড় মটকে যায় (এতে সে মারা যায়)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা কেয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে ওঠবে।’ (বুখারি)

শুধু হজে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির ব্যাপারেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ঘোষণা দেননি বরং তিনি তাঁর মেয়ে হজরত জায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর তাকেও বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি উম্মে আতিয়্যা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়ে জায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহার ইন্তেকাল হলে তিনি আমাদের কাছে আসেন এবং বলেন, ‘তোমরা তাকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তারচেয়ে বেশি বার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও।

শেষবার কর্পূর বা কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা (গোসল) শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা (গোসল) শেষ করে তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানা আমাদের দিয়ে বললেন, এটি তাঁর গায়ে জড়িয়ে দাও।’ (বুখারি)

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান এই পদ্ধতির সাথে একমত প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় দেখেছে, বরই পাতায় রয়েছে বেশ কিছু এন্টিসেপটিক গুনাগুন। বরই পাতা পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে একধরনের আঁঠালো প্রাকৃতিক নির্যাস পানির সাথে মিশে যায়, যা মানব শরীরকে জীবানুমুক্ত করার একটি এন্টিসেপটিক হিসেবে দুর্দান্ত কাজ করে।

বরইপাতার উপকারিতা ও গুণাগুণ বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত। গরম পানিতে সিদ্ধ বরইপাতার অ্যান্টিসেপটিক উপাদান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বেশ কার্যকর। পোকামাকড়ের আক্রমণ ও‌ পচন রোধ করতে সক্ষম।

এনএনবাংলা/এফএস