ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাচ্ছে ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাবসংবলিত একটি বিল এগিয়ে নিতে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। একই বিলে ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট দলের দুই আইনপ্রণেতার সমর্থনে বিলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত বাধা পেরিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় সময় বুধবার হাউসে বিলটির চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিলটি এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবসহ কয়েকটি আইনগত প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়। এই ফলাফল হাউসের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বকে বেশ অবাক করেছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
এর আগে গত সোমবার হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস বিলটির বিরোধিতা করেন। তার অভিযোগ, এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেবে।
এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় শুধু রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাত নয়, মস্কোর তেল সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা জাহাজগুলোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্য থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মস্কোকে সহায়তা করছে। এ কারণেই রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিলটিতে চীন ও ভারতসহ রাশিয়ার শীর্ষ তেল বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। গত ৭ আগস্ট সিনেটে পাস হওয়া সংস্করণে রাশিয়ার বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে পরিমাণের ভিত্তিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের কথা বলা হয়েছিল।
ওয়াশিংটনে ইউক্রেনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর লবিং কার্যক্রম জোরদারের মধ্যেই এই ভোটাভুটি হয়েছে। কিয়েভকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বাড়াতে আমেরিকান কোয়ালিশন ফর ইউক্রেনের উদ্যোগে ‘ইউক্রেন অ্যাকশন সামিট’ও চলছে।
তবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য বিলটি পাঠানোর আগে তা প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে। আগামী বৃহস্পতিবার হাউসের প্রারম্ভিক অবকাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আগামী ৯ নভেম্বর হাউসের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এনএনবাংলা/
