দিল্লিতে শুরু হচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন: নতুন বিশ্বশক্তির সমীকরণের ইঙ্গিত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ বিশ্বনেতারা ভারতে পৌঁছেছেন।
দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতাই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন সমীকরণ।
সম্মেলনের আগে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুতিন। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, সার, উৎপাদন, রেল, ইস্পাত এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ—একাধিক ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনায় রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তার প্রভাবও দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কেনার কৌশল অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে শি জিনপিংয়ের। গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর চীন সফরে যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই সফর তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, এ মাসেই কিরগিজস্তানে এক আঞ্চলিক সম্মেলনে শি ও মোদীর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল। দুই নেতাই মনে করেন, ভারত ও চীন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার—একে অপরের উন্নয়নের জন্য তারা হুমকি নয়, সুযোগ।
সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারা চায় জোটের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানানো হোক।
ট্রাম্প শুধু,পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেনি পাশাপাশি ব্রিকসের মতো গ্লোবাল সাউথ জোটগুলোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি ব্রিকসেকে তিনি “আমেরিকা-বিরোধী” বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এনএনবাংলা/এফএস
