সৌদির অনুরোধে সাড়া দেননি ট্রাম্প, বাব এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ মায়ুনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগত এই দ্বীপটি দখলের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে তারা।
ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌকা সেখানে পৌঁছায়। মায়ুন, যা পারিম নামেও পরিচিত, বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে দুটি অংশে ভাগ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘হুথিরা বাব এল-মান্দেব এলাকা ও প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’ ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির পাহাড়ি এলাকা থেকে হুতিরা পুরো প্রণালির ওপর নজরদারি চালাতে পারবে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হুতি যোদ্ধারা বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়েও অবস্থান নিয়েছে। সামরিক যান নিয়ে তাদের ওই এলাকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।
সৌদির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব
তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বাব এল-মান্দেব প্রণালি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রণালিটির আশপাশে অবস্থান নেওয়া রিয়াদ-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে অভিযান শুরু করে হুতিরা। ওই অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
বাব এল-মান্দেব এলাকায় চারটি কৌশলগত দ্বীপ রয়েছে—জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। মায়ুনের আগে বৃহস্পতিবার জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয় হুতিরা।
সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুতিরা। সেখানে থাকা দুই হাজারের বেশি সেনার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে হুতিরা।
একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, অবরুদ্ধ সেনারা কর্তৃপক্ষের কাছে খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন। তবে অবরোধ থেকে তাদের বের করে আনতে সেখানে বিমান পাঠানো প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে হুতিদের বার্তা
বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশ করে সুয়েজ খালের দিকে যায়। ফলে সরু এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে হুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম এল-আসাদ দাবি করেছেন, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। আল-আরাবি আল-জাদিদকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ মায়ুনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। ছবি: এএ ওয়ার্ল্ড
সৌদির অনুরোধে ট্রাম্পের ‘না’
ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রথম ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ পরিস্থিতির অবনতির কথা জানান। কয়েক ঘণ্টা পর আবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন তিনি।
তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে রাজি হননি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের বিষয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্য দেবে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে সৌদিতে অবস্থানরত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণও নেয়। এর পরদিন শুক্রবার মায়ুন দ্বীপ দখলের মাধ্যমে বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খবর সামনে আসে।
এনএনবাংলা/
