হামলার পর সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন করে চাপে পড়েছে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ। লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছে গেছে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনী। একই সময়ে ইরাক থেকে আসা ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এর আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যায়। হুথিরা একই সময়ে দ্বীপটির বিপরীতে থাকা লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর ধুবাবও দখল করেছে বলে দুটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হুথিরা কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করে। মোখা ও পেরিমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে হুথিদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এই নৌপথে ইরানের কৌশলগত সুবিধা বাড়তে পারে বলে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ওয়াশিংটনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কাজ করছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে এসেছে। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ইরাকে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এখন পর্যন্ত রিয়াদ কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি। ইরাক সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের জন্য সামুদ্রিক চলাচল নিরাপদ রয়েছে। তবে সৌদি জাহাজের ওপর আগে ঘোষণা করা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে থাকা হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথও ইরান-সমর্থিত শক্তির প্রভাবের আওতায় চলে আসতে পারে। এতে তেল সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনএনবাংলা/এফএস
