হুতিদের ঠেকাতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি: জেরুজালেম পোস্ট

ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এসব আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, সৌদি আরবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হুতিদের সামরিক অবস্থান, মোতায়েন ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সূত্রটির ভাষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ‘ভালো’ হয়েছে।
এর আগে সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠক হয়। হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সামরিক সহায়তা চেয়েছিল বলে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে সরাসরি মার্কিন হামলার অনুমোদন না দিয়ে ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার কথা জানিয়েছে।
হুতিদের অগ্রযাত্রায় সৌদির উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে তাদের অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
জেরুজালেম পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাওয়ার মূল লক্ষ্য সম্ভবত হুতিদের সামরিক অবস্থান ও তৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া। এসব তথ্য ভবিষ্যৎ অভিযান পরিকল্পনা এবং হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে বলে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা এবং বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে।
সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ
হুতি ইস্যুতে সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহযোগিতার আলোচনা সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান-সমর্থিত শক্তিগুলোর তৎপরতা নিয়ে উভয় দেশের কিছু অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে।
জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এই আলোচনার পর ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। তবে এ সহযোগিতার পরিধি ও বাস্তবায়ন কতটা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সৌদি আরবের সম্ভাব্য ইসরায়েলি সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন রিয়াদ হুতিদের হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। একই সময়ে অঞ্চলটির সামগ্রিক সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
এনএনবাংলা/
