সাম্প্রতিক
একনেকে ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা রামপালের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ: বাড়ছে লোডশেডিং, এখনো পৌঁছায়নি ভারতীয় প্রকৌশলী ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাচ্ছে ট্রাম্প আনিসুলের ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, ৭৩৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট-গাড়িসহ সম্পদ জব্দ, ১৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার ডিসি প্রত্যাহার ১৮ দিন পর ব্যাগ-মোবাইলসহ ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি করল ডিবি একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে নতুন রেকর্ড
Skip to content

উপনির্বাচনে থাকবে সেনাবাহিনী, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নির্বাচন কমিশনার বলেন, আসন্ন উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

তবে ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। কমিশনার বলেন, সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের সময়কে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

পরীক্ষা ও রোজার কারণে সময় নিয়ে চ্যালেঞ্জ

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। এবারের বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

এ কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নির্বাচন আয়োজনের কারণে কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়ও রয়েছে। এসব কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও কমিশন নজর দিচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের এসব উদ্বেগকে যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন এবং তা যথাযথভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কখন হতে পারে ইউপি নির্বাচন?

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময় পাওয়া কঠিন। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রোজার ছুটির পরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। আবার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। এই আঁটসাঁট সময়সূচির মধ্যে সব কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?

নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন বাজেট পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সমন্বয় দ্রুত শেষ করবে। স্টাফ পর্যায় ও সাচিবিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করার পর কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এরপরই তা প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে।

আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি ইসি

আগের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, এর আগে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের সমন্বয় সভার পর সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

ফলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কমিশন বিন্দুমাত্র সরে আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশন বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার।

এনএনবাংলা/