সাম্প্রতিক
স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া ভারতে পলাতকরা যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন উপনির্বাচনে থাকবে সেনাবাহিনী, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ মৃত্যু, জুলাইয়ের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে ইরানে মার্কিন হামলায় ‘যুদ্ধাপরাধের’ তথ্য পেল জাতিসংঘ, কাঠগড়ায় তেহরানও সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মুনাফা সামান্য বাড়াল সরকার, মিলবে যেসব সুবিধা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি পশ্চিমবঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’-‘ইনশাআল্লাহ’ বলার বিতর্কের মধ্যে নারী মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ
Skip to content

ব্যবসায়ীদের চাপে ‘গুজরাটের ইলিশ’ আমদানি, জানত না মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল মৎস্য অধিদপ্তর।

গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। তবে এই আমদানির বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আগে জানত না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বিষয়টি জানার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কীভাবে এমন একটি স্পর্শকাতর পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো, তা জানতে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

নতুন করে ইলিশ আমদানির অনুমতি নয়

এরপর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠির ভিত্তিতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধের সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ইলিশ সমুদ্রের মাছ এবং প্রজননের জন্য নদীতে আসে। অন্যদিকে ভারতের জেলেরা সমুদ্র থেকেই বেশি ইলিশ ধরে ফেলছেন। এসব কারণেও দেশের ইলিশের মজুত কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এবার বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম দেখা যাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের চাপের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে কিছু ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। তবে নতুন করে আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না।

দুই মাসে সাড়ে তিন লাখ কেজির বেশি ইলিশ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২২টি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। এসব ইলিশের আমদানিমূল্য প্রায় ছয় কোটি ৯২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

আমদানি করা ইলিশের পুরো চালানই ভারতের গুজরাটের ভারুচ এলাকা থেকে এসেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারে গুজরাটের ইলিশের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের আবেদনে অনুমতি, জানত না মন্ত্রণালয়

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, ভারত থেকে ইলিশ আমদানির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শুরু হয়। মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানতে চান, এমন একটি স্পর্শকাতর পণ্য আমদানির অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো।

পরে তিনি জানতে পারেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়ার পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধের বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে আমদানি বন্ধের সুপারিশ জানানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ইলিশ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/