সবজি-ডিমের দাম বেড়েছে, তেলের বাজারেও অস্থিরতা

সরকারি পরিসংখ্যানে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। তবে রাজধানীর বাজারে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই কোনো না কোনো নিত্যপণ্যের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। কোথাও দাম বাড়ছে, আবার কোনো কোনো পণ্যের দাম কিছুটা কমছে। সবজি, ডিম, মুরগি ও ভোজ্যতেলের বাজারে তুলনামূলক বেশি অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো চড়া দাম
রাজধানীর বাজারগুলোতে অধিকাংশ নিত্যপণ্য এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসুর ডালের মধ্যে বড় দানা প্রতি কেজি ৮২ টাকা, মাঝারি দানা ১৩৫ টাকা এবং ছোট দানা ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অ্যাঙ্কর ডাল ৬০ টাকা এবং ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
মসলা ও তেলেও স্বস্তি নেই
মসলার বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি জিরা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ধনে ২৬০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং গোটা হলুদ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাম তেল প্রতি কেজি ১৮৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচ-বেগুন-শসার দামেও চাপ
সবজির বাজারে কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার দামও বেশ চড়া। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৬০ টাকা এবং শসা ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১৬০ টাকায় উঠেছে। বরবটি ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, শিম ২৩০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কিছুটা স্বস্তিও আছে। টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। গাজর আগের মতোই ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩০ টাকায় নেমেছে।
ডিম-মুরগির বাজারেও বাড়তি খরচ
বাজারে ফার্মের মুরগি ও ডিমও তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেড় মাস আগে এর দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কম ছিল।
বর্তমানে বাদামি রঙের ফার্মের ডিমের এক ডজনের দাম ১৫০ টাকা। সাদা ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১০ টাকা কমে। প্রায় দেড় মাস আগেও ডিমের দাম একই ছিল।
গতকাল সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত এক-দুই সপ্তাহে এসব মুরগির দাম কমেনি।
সাধারণত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম ওঠানামা করে। কিন্তু এবার প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম একই জায়গায় রয়েছে।
মাছ-মাংসেও গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারেও বাড়তি চাপ রয়েছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের মধ্যে ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, জাটকা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পাঙাশ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাষের মাছেও বাজারভেদে দামের পার্থক্য
পুকুরে চাষ করা পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিতে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
টিসিবির হিসাবে কিছু পণ্যের দাম কমেছে
বৃহস্পতিবারের বাজারদরের সঙ্গে আগের বছরের একই সময়ের বাজারদর তুলনা করে টিসিবি জানিয়েছে, প্রতি কেজি সরু চালের দাম ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ, মাঝারি চাল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মোটা চাল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে।
বড় দানার মসুর ডালের দাম ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং মাঝারি দানার মসুর ডাল ৬ শতাংশ কমেছে। ছোট দানার মসুর ডালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অ্যাঙ্কর ডাল ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ছোলা মানভেদে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে।
একইভাবে দেশি পেঁয়াজ ৩০ শতাংশ, রসুন ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং হলুদ ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।
বাড়তির তালিকায় তেল ও কয়েকটি সবজি
অন্যদিকে টিসিবির হিসাবে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, দেশি পেঁয়াজ, দেশি ও আমদানি করা রসুন, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার দাম বাড়ার তথ্য রয়েছে। তবে বাজারে এসব পণ্যের কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিসিবির উল্লেখ করা হারের চেয়েও বেশি দাম বেড়েছে।
একই পণ্য একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হওয়ায় বাজারভেদে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারি হিসাবে কিছু পণ্যের দাম কমলেও বাজারে এসে তার পুরো সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা।
সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি কমার পরিসংখ্যান থাকলেও রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। বিশেষ করে সবজি, ডিম, মুরগি ও ভোজ্যতেলের দামের ওঠানামায় দৈনন্দিন বাজার খরচ সামলাতে ঘাম ঝরছে ক্রেতাদের।
এনএনবাংলা/
