ফারইস্টের নজরুলের ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির খোঁজে দুদক

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি টাকার বেশি) যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগের বিষয়ে দেশটিতে থাকা তাদের সম্পদের তথ্য জানতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালতের আদেশে ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রাজধানীর অভিজাত বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা, নিকুঞ্জ, মাতুয়াইল ও যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। এসব সম্পদের বড় অংশই বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট, নাল জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট।
নজরুলের নামে ৩৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদ
দুদক ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মো. নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
এর মধ্যে গুলশান-বারিধারা এলাকায় ৮ কাঠা বা ১৩.২২২ শতাংশ জমিসহ একটি বাড়ির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাল জমি ও প্লট রয়েছে তার নামে।
ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজা এবং মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে বড় আকারের নাল জমি ও পুকুর রয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় (কুয়াকাটা) রয়েছে ৬ দশমিক ১৬ একর নামা জমি। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমি রয়েছে।
স্ত্রীর নামে ক্রোক ১৯ কোটি টাকার সম্পদ
নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।
এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল ভূমি রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকায় একাধিক বাড়ি এবং প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
দুদক ও আদালত সূত্র জানায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনাসহ বিভিন্নভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব সম্পদের সন্ধান পায় দুদক।
১৪টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য নজরুল
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মো. নজরুল ইসলাম ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব ও গুলশান ক্লাবসহ ১৪টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পেরেছে, নজরুল ইসলাম ও তার পুরো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ২০১৫ সালে তিনি ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলিংটনে একটি বাড়ি কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই বাড়ি এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অন্যান্য সম্পদের তথ্য উদ্ধারে শিগগিরই এমএলএআর পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।
৭ মামলা, আরও মামলার প্রস্তুতি
মো. নজরুল ইসলাম ও অন্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া আরও পাঁচ থেকে সাতটি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এনএনবাংলা/
