ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। ছয় দিন বন্ধ থাকার পর বন্দরটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার।
এর আগে বিভিন্ন দাবিতে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য বন্ধ হয়ে বন্দরের কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল মুঠোফোনে জানান, হিলি বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জটিলতা নিরসনে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসে। বুধবার তিনি বালুরঘাট সফরে গেলে হিলি স্থলবন্দর আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে এসব সমস্যা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেয়। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক বলেন, শুক্রবার ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজেশ কুমার আগরওয়ালা পিন্টু স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। ওই চিঠিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই ভারত থেকে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বেলা ১২টার পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে বেশ কয়েকটি ট্রাকও ভারতে প্রবেশ করছে।
ছয় দিন বন্ধ থাকার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্য শুরু হওয়ায় বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরতে শুরু করেছে।
এনএনবাংলা/
