স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্য হওয়ার মতো স্থানীয় সরকারের যেকোনো পদে জনপ্রতিনিধি হতে প্রার্থীর ভোটার হওয়াই যথেষ্ট।
রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন আলোচনা ও বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোনোটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখেনি। ফলে ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।’
সংসদ সদস্য পদের উদাহরণ টেনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও মনোনয়ন ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত নেই। কারণ সংবিধানেও এ ধরনের বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।
তার ভাষ্য, একজন সমাজসেবকের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও তিনি স্বশিক্ষিত কিংবা মেধাবী হতে পারেন। সব নাগরিকের জন্য জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত না রাখলে তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন হবে।
নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার আইনে বলা হয়েছে—প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৫’-এর বিধি ১১.১৭-এর ক ও খ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পদকে লাভজনক পদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে নির্বাচনি আইনের মিল থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া বিধিমালা অনুযায়ীই প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কমিশন এ বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা বা আইনি ব্যাখ্যা চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব
স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিল পাস নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিলগুলো যখন সংসদে পাস হয়েছে, তখন সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরাই সংসদে উপস্থিত ছিলেন। তাই এ বিষয়ে সরকারের ওপর একতরফাভাবে দায় চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।
এনএনবাংলা/
