সাম্প্রতিক
নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী দিল্লিতে শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল, নেপথ্যে কী? দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হাতছাড়া মমতার ব্যবসায়ীদের চাপে ‘গুজরাটের ইলিশ’ আমদানি, জানত না মন্ত্রণালয় বাজারে উধাও ১ লিটারের সয়াবিন, খোলা তেলের দামও চড়া গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়া বিএনপি এখন তা চায় না: নাহিদ ইসলাম পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট: সরকারি ভোজ নিষিদ্ধ ও বিয়ের দাওয়াতে এক পদ গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৯ মার্চ লবণাক্ততায় হারাচ্ছে সুন্দরবনের ঔষধি গাছ, বিলুপ্তির পথে ভেষজ চিকিৎসা ও জ্ঞান
Skip to content

আল জাজিরার প্রতিবেদন

লবণাক্ততায় হারাচ্ছে সুন্দরবনের ঔষধি গাছ, বিলুপ্তির পথে ভেষজ চিকিৎসা ও জ্ঞান

কয়রার কবিরাজ সুরঞ্জন রপ্তান সুন্দরবন থেকে ভেষজ গাছের ছাল সংগ্রহ করছেন। ছবি: আল জাজিরা

সুন্দরবনে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কমে যাচ্ছে ঔষধি উদ্ভিদ। এর সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ভেষজ চিকিৎসার জ্ঞান ও ঐতিহ্য। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষের এই সংকটের চিত্র।

সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদী পেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঔষধি গাছ সংগ্রহ করেন ৪০ বছর বয়সী ভেষজ চিকিৎসক সুরঞ্জন রপ্তান। বাবার কাছ থেকে শেখা এই বিদ্যায় তিনি ২১ বছর ধরে পাতা, শিকড় ও গাছের ছাল দিয়ে ভেষজ ওষুধ তৈরি করছেন। তবে তার অভিজ্ঞতায়, সুন্দরবন এখন আর আগের মতো নেই। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর বন ধীরে ধীরে পাতলা হয়েছে। ২০১৫-১৬ সালের দিকে পরিচিত অনেক ঔষধি গাছ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে সুন্দরবনের জোয়ারের পানিতে লবণের পরিমাণ প্রতি হাজার লিটারে ২১ গ্রাম থেকে বেড়ে ৩৩ গ্রামে পৌঁছেছে। একই সময়ে মাটির লবণাক্ততা বেড়েছে ৩১ শতাংশ। এর প্রভাবে সুন্দরীসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বাইন গাছও ফুল ফোটানো বন্ধ করে দিয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ও প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুর রহিম বলেন, লবণাক্ততা বনের উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের স্বাভাবিক ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। লবণসহিষ্ণু কিছু গাছ টিকে থাকলেও সংবেদনশীল ঔষধি উদ্ভিদ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

এর প্রভাব পড়ছে ভেষজ চিকিৎসকদের জীবিকাতেও। ২০ বছর আগে সুরঞ্জনের বাড়িতে প্রতিদিন রোগীর ভিড় থাকলেও এখন তা অনেক কমেছে। আধুনিক চিকিৎসার প্রসার এর একটি কারণ হলেও দুর্গম ও দরিদ্র অঞ্চলের বহু মানুষের কাছে এখনো কবিরাজ সহজলভ্য চিকিৎসার ভরসা।

৬৫ বছর বয়সী ভেষজ চিকিৎসক প্রভাত সারদার ৩৫ বছর ধরে এ পেশায় আছেন। তার দাদাও ভেষজ চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু নিজের পর এই জ্ঞান ধরে রাখার মতো কাউকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। একসময় হাতের কাছে পাওয়া ঔষধি গাছ এখন দূরের জেলা কিংবা নার্সারি থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

সুরঞ্জনের হিসাবে, তার বাবার সময়ে কয়রায় ৮ থেকে ১০ জন ভেষজ চিকিৎসক সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে টিকে আছেন মাত্র তিনজন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বরগুনার ভেষজ চিকিৎসকদের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং ৮১ দশমিক ৫ শতাংশের পারিবারিকভাবে এ বিদ্যা শেখার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সারদার নাসির উদ্দীন বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে ঔষধি উদ্ভিদের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা পুরোপুরি অনুধাবনের আগেই অনেক প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, একজন অভিজ্ঞ ভেষজ চিকিৎসকের মৃত্যু মানে যেন একটি আস্ত লাইব্রেরি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া।

তবে হাল ছাড়েননি সুরঞ্জন। আইলার নোনা পানিতে বাবার লাগানো শতাধিক ঔষধি গাছের বাগান নষ্ট হওয়ার পরও বাড়ির উঠানে প্লাস্টিকের টবে নতুন চারা লাগাচ্ছেন তিনি। ২ হাজার লিটারের ট্যাংকে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখছেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে চালিয়ে যাচ্ছেন গাছ লাগানোর কাজ। বর্ষায় লবণাক্ততা কিছুটা কমলে গাছগুলো টিকে থাকবে—এই আশাতেই ঐতিহ্যবাহী ভেষজ জ্ঞান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।

(প্রতিবেদনটি আল জাজিরা থেকে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে)

এনএনবাংলা/