সাম্প্রতিক
এআইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. হাসানুল এ. হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আবেদীন ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই ৬০ প্রাণহানি যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, ফার্স্ট মিনিস্টারদের চুক্তি বিদ্যুতে লুটপাট: ১৭ বছরে পরিশোধ ২,৮৯,৯৪৯ কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ! ডাকসুতে জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: ঢাবি কর্তৃপক্ষ ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিনকে মেয়র প্রার্থী করল জামায়াত ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার হরমুজ বন্ধের খবরে তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, আতঙ্কে পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬ টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায় ভারত
Skip to content

মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের সন্ধান, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে খুলছে নতুন দুয়ার?

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সম্ভাব্য মজুত শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান এ তথ্য জানিয়েছেন। বিশাল এই খনিজভাণ্ডারের আবিষ্কার সৌদি আরবের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০তম অধিবেশনে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী জানান, মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় পরিচালিত অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় উচ্চমাত্রায় বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট) রয়েছে। বিশেষ করে ভারী ধরনের বিরল মৃত্তিকা খনিজের ঘনত্ব সেখানে উল্লেখযোগ্য। একই এলাকায় ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় মজুত শনাক্ত হয়েছে।

প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেন, জাবাল সাইয়িদ প্রকল্পের অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সম্ভাব্য মজুত শনাক্ত করা হয়েছে।

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা

সৌদি আরবে এই বিশাল খনিজভাণ্ডারের ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে। গত ২২ জুলাই মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও বিলিয়ন ডলারের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়াবে।

রেয়ার আর্থে চীনের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ?

বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম ও মূল্যবান ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মৃত্তিকা খনিজের সন্ধান সৌদি আরবকে বৈশ্বিক খনিজ ও জ্বালানি রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে রেয়ার আর্থ খনিজের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের বড় ধরনের আধিপত্য রয়েছে। ফলে সৌদির নতুন এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বৈশ্বিক রেয়ার আর্থ সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এই খনিজভাণ্ডার ঘিরে বড় ধরনের উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম শুরু হলে সৌদি আরবে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। আর সেই সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।

সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক

২০২৫ সালে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। ওই সময়ে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। চলতি বছরেও বিদেশে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় একটি অংশের গন্তব্য সৌদি আরব।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন। অর্থাৎ এ সময়ে বিদেশে যাওয়া মোট বাংলাদেশি জনশক্তির ৫০ দশমিক ৮৭ শতাংশের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব।

ফলে মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় বিশাল খনিজভাণ্ডার ঘিরে যদি বড় আকারের খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সুযোগ কতটা বাস্তবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ প্রকল্প, দক্ষ জনশক্তির চাহিদা এবং দেশটির শ্রমবাজার নীতির ওপর।

রেমিট্যান্সেও সৌদি আরবের বড় অবদান

বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস সৌদি আরব। দেশটি থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৫-২০২৬ সালে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণে মদিনার বিশাল খনিজসম্পদ ভবিষ্যতে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে তার একটি অংশ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া দেশের জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এনএনবাংলা/