বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, চাইনিজ কোম্পানির গাড়ি আটকে ১৭ হাজার টাকা আদায়
নীলফামারীতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নেশাজাতীয় কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। এরই মধ্যে চাইনিজ কোম্পানির একটি প্রাইভেট জিপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের হালকা সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাড়ি আটকে চালককে মারধর এবং প্রায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
পরে এক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ১৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর প্রায় চার ঘণ্টা পর কোম্পানির গাড়ি ও চালককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কের লোকাল বাস টার্মিনাল সংলগ্ন রাজা ফিলিং স্টেশনের সামনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা ইপিজেডের উত্তরা সোয়েটার ফ্যাক্টরির চালক মো. আতিকুর রহমান চাইনিজ কোম্পানির কর্মকর্তাদের নীলফামারী পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার একটি কোম্পানি কার্যালয়ে নামিয়ে দিয়ে ইপিজেডে ফেরার পথে ওই এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে কোম্পানির জিপের হালকা সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি সামান্য আহত হন। তাদের বাড়ি নীলফামারীর সোনারায় ও পার্শ্ববর্তী খানসামা এলাকায় বলে জানা গেছে। পরে তারা নীলফামারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার পর নতুন বাজার এলাকার সুমন ও কলেজপাড়া এলাকার আনোয়ারসহ ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি কোম্পানির গাড়িটি আটকে চালক মো. আতিকুর রহমানকে মারধর করেন এবং তার কাছে প্রায় এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ১৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর প্রায় চার ঘণ্টা পর চালক ও গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমন ও আনোয়ারসহ ওই গ্রুপটি লোকাল বাস টার্মিনাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, ব্যক্তির অপরাধের দায় কোনোভাবেই পুরো দলের ওপর বর্তানো উচিত নয়; তবে দলীয় নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “এদের আইডেন্টিফাই করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে চাঁদা দাবি, মারধর ও গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এনএনবাংলা/
