সাম্প্রতিক
বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাল প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি, আহত নারীর মৃত্যু নেপালে বন্যার ৯ দিন পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ২ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২% শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ডিম-সবজির বাজারে অস্বস্তি, বেড়েছে সয়াবিন তেল-মাছ-মুরগির দাম বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া ২ হাজার আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার লংমার্চ সরকার উৎখাতের আন্দোলন নয়, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি: পরওয়ার বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে ২৩ বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী আটক উত্তমকুমার শুধু জনপ্রিয় নন, তিনি বাঙালির মনের নায়ক: জয়া আহসান ‘সংখ্যালঘু’ নয়, বাংলাদেশি পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Skip to content

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান-এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালন করবে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ, মরহুমের পরিবার ও তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি।

কর্মসূচির মধ্যে ছিলো শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বাহারমর্দনে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প। একই দিন বাদ জুমা মৌলভীবাজার পশ্চিম বাজার জামে মসজিদে মরহুম এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

এছাড়া শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুম এম সাইফুর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত করা হবে। এদিন দুপুর ১২টায় মরহুম এম সাইফুর রহমানের পরিবার ও এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। স্মৃতি পরিষদ ও মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে ওইদিন সকাল ১০টায় কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কোরান খতম, বাদ যোহর মিলাদ, দোয়া ও শিরণী বিতরণ করা হবে।

এছাড়াও দলীয়ভাবে স্থানীয় জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপিসহ অংঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা মিলাদ মাহফিল, দোয়াসহ নানা কর্মসূচী পালন করবে।

মরহুম এম সাইফুর রহমান কর্মময় জীবনে তার অনন্য গুণে মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়ে ছিলেন। তাঁর সাদামাটা ব্যক্তিগত জীবন মানুষের দৃষ্টি কাড়ত। ছিল না চাওয়া-পাওয়ার অস্থিরতা। বিলাসিতাও পছন্দ করতেন না। কথা বলতেন মারপ্যাচের জটিলতা ছাড়াই সরল সহজ আর ইংরেজি মিশ্রিত আঞ্চলিকতায়। এ কারণেই দেশ-বিদেশে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তাঁর।

মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনের সাধারণ মানুষটি দেশের অন্যতম অর্থমন্ত্রী যিনি একনাগাড়ে ১২ বার সংসদে বেশ সফলতার সাথে বাজেট পেশ করেছেন। কর্মে তারঁ অনন্য গুণ তিনি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নও করতেন। এটাই তার অবিচল আস্থা বিশ্বাস আর কাজের প্রতি নিখাঁদ আন্তরিকথা ও কর্তব্যকর্মে দ্বায়িত্বশীলতার নজির। নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেট বিভাগেই রয়েছে তার চোখ ধাধাঁনো উন্নয়নের ছোঁয়া।

সংক্ষিপ্ত জীবনী: জন্ম ১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর, মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে। তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল বাছির,মায়ের নাম তালেবুন নেছা। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি, মাত্র ৬ বছর বয়সে তাঁর পিতা মারা যান। সে সময়ে তাঁর অভিভাবকক্ত গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি। শিক্ষাজীবন, গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৪৯সালে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশনে উত্তীর্ণ হন। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আইকম পাশ করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারীস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে চলে যান। সেখানে পৌঁছার পর মত পাল্টে যায় তার, ব্যারিষ্টারির পরিবর্তে পড়েন চার্টার্ড একাউন্টেন্সি। ১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ফেলোশীপ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালের ১৫ জুলাই বেগম দূররে সামাদ রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ২০০৩ সালে তার স্ত্রী দুররে সামাদ ইন্তেকাল করেন।

২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন। তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী বাহারমর্দনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) -এর প্রতিষ্ঠা লগ্নে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এম সাইফুর রহমানকে দল গঠনে অংশ নিয়ে দেশও জাতীর কল্যাণে নিবেদিত হতে বলেন। তিনি তাই করলেন। রাজনীতিতে এলেন, আলোকিত করলেন, আলোকিত হলেন। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন ও ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৬ সালের ৮ জুন তিনি সংসদে দ্বাদশ বাজেট পেশ করে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক বাজেট পেশকারি হিসেবে রের্কড গড়েন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন ছাড়াও দেশ-বিদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন কৃতিত্বের সাথে। তাঁর জীবদ্দশায় দেশ ও বৃহত্তর সিলেট নিয়ে যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা করেছিলেন তার অনেকগুলো বাস্তবায়ন হলেও পুরোটা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। হঠাৎ এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিভেযায় তার জীবন প্রদীপ,স্তব্ধ হয়ে যায় তার দেখা উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার স্বপ্ন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এম সাইফুর রহমান মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থপতি মরহুম এম সাইফুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধির প্রধান কারিগর ছিলেন। জাতীয় সংসদে সর্বাধিকবার বাজেট প্রণয়নকারী অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নীতি ও সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা নিশ্চিত করতেও তাঁর অবদান অসামান্য।

বিশেষ করে সিলেট বিভাগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি আধুনিক রূপকল্প তৈরি করেছিলেন। মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেটকে উন্নয়নের ধারায় সংযুক্ত করতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপ আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।

এনএনবাংলা/