উত্তমকুমার শুধু জনপ্রিয় নন, তিনি বাঙালির মনের নায়ক: জয়া আহসান

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারকে ঘিরে বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসা আজও অটুট। পঞ্চাশের দশক থেকে বাংলা সিনেমার দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই কিংবদন্তি অভিনেতা মৃত্যুর পরও কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন। মহানায়কের জন্মশতবর্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।
উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জয়া। সেখানে উত্তমকুমারকে সত্যিকার অর্থে একজন ‘আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জয়া লিখেছেন, ‘আইকন’ শব্দটির যদি কোনো সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, তবে সেই শব্দ বা নামটি অবশ্যই উত্তমকুমার। একশ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তার মতো উজ্জ্বল ও সর্বগ্রাসী উপস্থিতি নজিরবিহীন।
উত্তমকুমার শুধু অভিনেতা বা নায়ক ছিলেন না বলেও মনে করেন জয়া। তার ভাষায়, একজন শিল্পীর যে বহুমাত্রিক সত্তা, তারই এক অনন্য সমন্বয় ছিল উত্তমকুমারের ব্যক্তিত্বে। পর্দায় তার অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি পর্দার বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অভিঘাত।
শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে উত্তমকুমারের প্রভাবের পুরোটা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন জয়া। তিনি বলেন, ‘জনপ্রিয়তা তাকে মহানায়ক করেছে; কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা তার পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়। তিনি বাঙালির মনের নায়ক; এমন এক প্রতীক, যার সঙ্গে বাঙালির পুরুষত্ব, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের একটি বিশেষ আবেগ আজও জড়িয়ে আছে।’
কালজয়ী এই অভিনেতার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তুলে ধরে জয়া আরও লিখেছেন, ‘সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার ভাষাও বদলেছে। কিন্তু উত্তমকুমার নির্মিত সেই মিথ এখনও অমলিন।’
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘ভালোবাসা ও নিরন্তর মুগ্ধতার এই ঋণ কখনও ফুরোনোর নয়।’
উল্লেখ্য, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে। একইভাবে বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানায়ককে স্মরণ করছেন সাধারণ দর্শক ও তারকারা। দুই বাংলার মানুষের কাছে উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তা যে সময়ের সঙ্গে কমেনি, জন্মশতবর্ষের আয়োজনগুলোতেই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
এনএনবাংলা/
