সাম্প্রতিক
উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, থামিয়ে মামলা দিল ট্রাফিক পুলিশ ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তিতে ‘ভ্যাট’ অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের তিন বছরে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী ট্রাম্পের মুখ ১ ডলারে, শত বছরের রেকর্ড ভেঙে মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে মামলা রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব, কমেছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় ৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯ অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এল নিনো’র বিষয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা বেনজীরের অবস্থান জানতে ফের ইন্টারপোলে চিঠি
Skip to content

ছুটির দিনের বাজার-সদাই

ডিম-সবজির বাজারে অস্বস্তি, বেড়েছে সয়াবিন তেল-মাছ-মুরগির দাম

ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে। ডিম, সবজি, মুরগি ও সয়াবিন তেলের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অধিকাংশ সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা কিছুটা ছাড় দিলেও এখন সে সুযোগও থাকছে না।

তেজগাঁওয়ের ডিম বিক্রেতা আবু কাদির বলেন, ‘ফার্মের মুরগির ডিম এখন হালি ৫৫ টাকা। দাম বাড়লেও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’

এদিকে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবং নতুন দাম নির্ধারণের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট কাটেনি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও বাড়তি চাপ

সবজির বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজির বেশির ভাগই ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে শসা পাওয়া গেলেও এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। দেশি শসার দাম অবশ্য আরও বেশি, ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

বর্ষা মৌসুমে বাজারে আসা আগাম শিমের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। তুলনামূলক স্বস্তি দিচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৪০ টাকা।

কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ১৬০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজার অবশ্য তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। প্রতি আঁটি লাল শাক ও কলমি শাক ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

মালিবাগ বাজারে কথা হয় এক বেসরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে। সবজির বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রায় সব সবজির দামই বেড়েছে। কোনো কোনো সবজিতে অন্তত ১০ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে এখন তেমন কোনো সবজি নেই। টমেটো, বেগুন ও করলা কিনতে গেলেও কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।’

মুরগি ও মাছেও চড়া দাম

সবজির পাশাপাশি মুরগির দামও বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে।

তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে ক্রেতাদের ৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভেটকি মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়। পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই মিলছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো কিছু মাছ কিনতে কেজিপ্রতি হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের মাছ বিক্রেতা কাওছার জানান, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও তুলনামূলক বেশি চাহিদার মাছ, বিশেষ করে নদীর বেলে কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি দিতে হচ্ছে।

এনএনবাংলা/