Skip to content

Upcoming
France
0-0
Senegal
Source: ESPN

ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

ছবি: ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, মানবপাচার, দুর্নীতি, জালিয়াতি, অস্ত্র, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম ও ইসওয়াতানিসহ বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব বাংলাদেশিকে খুঁজছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও ওয়ান্টেড তালিকা।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, সারা বিশ্বের ৬ হাজার ৪৪২ জন ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তির মধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি। তবে ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। সব রেড নোটিশধারীর নাম প্রকাশ্যে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় দেখানো হয় না। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তথ্য গোপন রাখা হয়।

যেসব বাংলাদেশিকে খুঁজছে বিদেশি রাষ্ট্র

বিদেশি বিভিন্ন দেশের চাহিদাকৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন—

  • চাঁদপুরের রাজু ঢালী, যাকে খুনের অভিযোগে খুঁজছে সিঙ্গাপুর।
  • ঢাকার মো. মিলন ও লিটন ব্যাপারীকে খুনের অভিযোগে খুঁজছে ইসওয়াতানি।
  • নোয়াখালীর মিজান মিয়াকে খুঁজছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
  • মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগে ভারত খুঁজছে খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ,
  • গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিক উলকে।
  • লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে খুনের অভিযোগে খুঁজছে বেলজিয়াম।
  • নাটোরের সিরাজ মোস্তফাকে চোরাচালান এবং ফেনীর আলা উদ্দিনকে হত্যা মামলায় খুঁজছে মালয়েশিয়া।
  • তছরুপের অভিযোগে মালদ্বীপ খুঁজছে হানিফকে।
  • যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম এবং অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ যাদের খুঁজছে

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে খোঁজা হচ্ছে একাধিক পলাতক আসামিকে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার, অস্ত্র, নির্যাতন, জালিয়াতি ও পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার ও শরীফুল হক ডালিমসহ আরও অনেকে।

এছাড়া মানবপাচারের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল এবং মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলামকে খুঁজছে বাংলাদেশ। পর্নোগ্রাফির অভিযোগে টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ এবং জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানও রয়েছেন তালিকায়।

ইন্টারপোল কী?

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশের সদস্যভুক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বব্যাপী অপরাধ দমন, তথ্য আদান-প্রদান এবং পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সংস্থাটি।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অপরাধী শনাক্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এনএনবাংলা/