




শাল-গজারি ঘেরা বনের ভেতর বিলাসবহুল ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীরের দাপটে সরকারি বন ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচতারকা মানের এই রিসোর্ট।
পারটেক্স গ্রুপের প্রয়াত ব্যবসায়ী এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আলী রাসেলের উদ্যোগে ১৯ একর জায়গা নিয়ে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’র যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে ক্ষমতাধর বেনজীর আহমেদের দাপটে বাড়তে থাকে জমির পরিমাণ।
স্থানীয়দের অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের বারুইপাড়া মৌজার নলজানি এলাকায় কৌশল করে বনের ভেতরে প্রথমে ব্যক্তিমালিকানা কিছু জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে বেনজীর আহমেদের অদৃশ্য ক্ষমতায় আশপাশের ৬ একর ৭০ শতাংশ বনের জায়গা দখল করে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিম্মি করে দখল করে নেন প্রায় ৩ একর কৃষি জমি। কথিত আছে, বিলাসবহুল রিসোর্টটির দখল বাণিজ্যে ‘মূল হোতা’ হিসেবে ২৫ শতাংশ শেয়ার পেয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ।
নলজানী এলাকার প্রবীণদের সাথে আলাপে উঠে আসে কীভাবে বনের জায়গা সহ খোদ স্থানীয়দের জমি গ্রাস করেছে এই ভাওয়াল রিসোর্ট। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটা বনের জায়গা আছিল, বাউন্ডারিও আছিল না। আমাগো সব ধান কাইটা নিছে।’
সরকারি নথি বলছে, ভাওয়াল রিসোর্ট তৈরির সময়ে রিসোর্টের প্রবেশমুখে ও ভেতরে সব মিলিয়ে ৪ নম্বর বড়ইপাড়া মৌজায় ০৩ নং, ২৭৯ নং ও ২৭১ সিএস দাগে ১১ বিঘা বনের জায়গা দখলে নিয়েছে রিসোর্টটি।
নিজের জমি হারানো ভুক্তভোগী শফিউল্লাহ জানান, রিসোর্টের মূল ফটকের সামনে বানানো পাহাড় ও ভেতরের জমি তাদের ছিল। মূল্য পরিশোধ না করেই জমিটি দখল করে নেওয়া হয়েছে। সেসময় আশপাশে পুলিশি জিম্মি দশায় তারা কথাও বলতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের সাহসেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব করেছে।’
শফিউল্লাহর মতো স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন দাবি করেছেন, তাদের জমি দখল করে রেখেছে রিসোর্টটি। শুধু দখল বাণিজ্য নয় ডিমার্গেসন, প্রশাসনের অনুমোদন কিংবা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই কী করে গহিন বনে গড়ে উঠল এমন রিসোর্ট। আবার স্থানীয় প্রশাসন থাকার পরেও কীভাবে দখল হয়ে গেলো বন সম্পদ কিংবা কৃষিজমি- তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, অবৈধ দখলের অভিযোগ এনে গাজীপুরের ভাওয়াল রিসোর্টের মালিক শওকত আলী রাসেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুনে আদালতে মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী এক মুক্তিযোদ্ধা।
রিসোর্টের একজন নিরাপত্তা কর্মীর কাছে অবৈধভাবে জমি দখল করে রিসোর্টটি করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে হেডঅফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরবর্তীতে রাজধানীর বনানীতে ভাওয়াল রিসোর্টের হেড অফিসে গেলে জানা যায় এটি আম্বার ডেনিমেরও হেড অফিস।
তবে, বনের জায়গা দখল করে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম কীভাবে সরকারের নাকের ডগায় পরিচালনা করছে পারটেক্স গ্রুপ, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির হেড অফিসে উপস্থিত হলে দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
এনএনবাংলা/
Tags: আম্বার ডেনিমপারটেক্স গ্রুপভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাশওকত আলী রাসেলসাবেক আইজিপি বেনজীর
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন