Skip to content

Upcoming
Argentina
0-0
Austria
Source: ESPN

সেনা মোতায়েনের ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা বৃদ্ধি’ এবং সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে দেশের ছয় এলাকায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “কোন কোন জায়গায় তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে। এছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে, যা এখন প্রকাশ করতে চাই না। দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে। সে কারণেই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”

৩০ জুন পর্যন্ত সেনা মোতায়েন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

‘এটি রুটিন ওয়ার্ক’

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ ব্যবস্থার আওতায় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী কিংবা বিজিবিকে মাঠে নামানো সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ।

তিনি বলেন, “গত দেড় বছর ধরে মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ১৫ জুন সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বর্তমান সেনা মোতায়েনের সঙ্গে আগের পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু কর্মকাণ্ড আমাদের নজরে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় তারা মিছিল-মিটিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় আমরা সব বাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছি।”

পুলিশের ওপর আস্থাহীনতা নয়

পুলিশের প্রতি আস্থার ঘাটতির কারণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এখানে আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নেই। পুলিশ বাহিনী অনেক কৃতিত্বপূর্ণ কাজ করেছে। যারা অনিয়ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। তবে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এমপি-পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে যা বললেন

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান।

তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় সরকারের অঙ্গীকার

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে বিশ্বাসী। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা অতীতের তুলনায় অনেক কম। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।”

বৈঠকে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/