সংসদ সদস্যের গ্রেপ্তার নিয়ে সংবিধানে কী বলা হয়েছে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার সেই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কোনো এমপিকে গ্রেপ্তার করতে হলে কিছু নিয়ম মানতে হয়। সেগুলো হলো-
সংসদ ভবনের বাইরে গ্রেপ্তার
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭২ নম্বর বিধান মতে, সংসদ ভবনের বাইরে কোনো এমপিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্পিকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান নেই। তবে গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবিলম্বে স্পিকারকে জানাতে হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার বা আটকের কারণও জানাতে হয়।
গ্রেপ্তারের পর মুক্তি বা জামিন
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৩ নম্বর বিধান মতে, কোনো এমপি গ্রেপ্তারের পর মুক্তি পেলে বা জামিনে ছাড়া হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেই বিষয়টিও স্পিকারকে জানাতে হয়।
সংসদ ভবন বা সীমানা চত্বরে গ্রেপ্তার
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৪ নম্বর বিধান মতে, সংসদ ভবন বা সীমানা চত্বরের মধ্যে গ্রেপ্তারের আইনি অবস্থান সাধারণত সংসদীয় ও সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সংসদ ভবন বা এর নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কোনো এমপিকে গ্রেপ্তার করতে হলে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন।
সাধারণ ফৌজদারি গ্রেপ্তারের সাংবিধানিক নিয়ম
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩(১) ও ৩৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার করা হলে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। সাধারণ ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। দেওয়ানি মামলায় আবার সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা সুরক্ষা রয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৫এ ধারায় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এবং অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো সংসদ সদস্যকে দেওয়ানি মামলায় গ্রেপ্তার বা কারাগারে আটক করা যাবে না। তবে এই সুরক্ষা শুধু দেওয়ানি মামলায় গ্রেপ্তার বা আটকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৫এ ধারার এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়।
সংসদ সদস্যদের বিশেষাধিকারের বিষয়টি সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদেও উল্লেখ রয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্য, ভোট এবং সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে সদস্যদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংসদে বক্তব্য বা ভোট দেওয়ার কারণে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে কার্যক্রম নেওয়া যাবে না। তবে সাধারণ ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তার থেকে সর্বাত্মক দায়মুক্তি দেয়নি সংবিধান। এ ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হলে অন্য নাগরিকের মতোই তার ক্ষেত্রেও সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের গ্রেপ্তার ও আটক-সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য হবে। গ্রেপ্তারের কারণ জানানো এবং আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার মতো সাংবিধানিক সুরক্ষাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এনএনবাংলা/এনজেড
