ফ্রান্সের বিক্ষোভে ভাইরাল ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান, কেন এত আলোচনা?

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে ভাইরাল হয়েছে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগান। স্ন্যাপচ্যাটে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তা থেকে এর উৎপত্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ব্যঙ্গাত্মক এই বাক্যাংশকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন বিক্ষোভকারীরা। ফ্রান্সের গণ্ডি পেরিয়ে বেলজিয়াম ও জার্মানির বিক্ষোভেও ব্যবহৃত হচ্ছে স্লোগানটি।
আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’র অর্থ ‘আল্লাহর নামে’ এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’র অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান। এতে লেখা ছিল, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এবং ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’
বার্তাটির ভাষা তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণের ব্যর্থ চেষ্টা বলে মনে হওয়ায় এর স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনেক তরুণের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বার্তাগুলো পাঠিয়ে থাকতে পারেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কোনো এজেন্ট এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করেনি। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করতে পারে।
বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটি এখন কর্তৃপক্ষকে বিদ্রূপ করার পাশাপাশি নজরদারি ও আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যম। ফ্রান্সের একটি ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ প্যারিসের শিক্ষার্থী ফেদ্র কেমেনের মতে, এটি তরুণদের কথাবার্তা অনুকরণ করার অত্যন্ত ব্যর্থ চেষ্টা। স্লোগানটিতে আরব বংশোদ্ভূতদের সম্পর্কে নেতিবাচক পূর্বধারণা প্রকাশ পেয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সুইডিশ পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে স্লোগানটি পুনরাবৃত্তি করেন। এর জনপ্রিয়তা ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অপমানসূচক শব্দকে প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করেছেন।
ফ্রান্সে গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আরও শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং চাপপূর্ণ সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। কয়েকশ স্কুলে ছড়িয়ে পড়া এ আন্দোলনের কিছু ঘটনায় সহিংসতা দেখা দেয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর বা লুটপাট চালানো হয়েছে এবং এসব ঘটনায় প্রায় আট হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক সংগঠন আন্দোলনে যুক্ত হলে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের কঠোর পদক্ষেপও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ বাড়ায়। গত মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অসদাচরণের অন্তত ৩৪টি অভিযোগ তদন্ত করছে ফ্রান্সের সরকারি পুলিশ-নজরদারি সংস্থা।
স্লোগানটি এখন ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলন, পুলিশি নজরদারি, বর্ণগত বৈষম্যের অভিযোগ এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের দূরত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
এনএনবাংলা/
