ইতালিতে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ও লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি

ইতালির মিলান শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। সহিংসতার আশঙ্কায় শহরটির বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও বিবেচনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব অনুমোদন পেতে পারে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যদের সাময়িকভাবে পুলিশের মতো ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত শনিবার ও রোববার মিলানে টানা দুই দিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। সংঘর্ষের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ফ্যাশনশিল্পের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত মিলানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় এ সপ্তাহে বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু দোকান থেকে প্রদর্শনীর জন্য রাখা পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আগামী শনিবার আবারও বিক্ষোভ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা
সহিংসতা ঠেকাতে জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছে ইতালির সরকার। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটকসংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করা এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখার বিষয়ও রয়েছে।
ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি মিলানের সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আরটিএল ১০২.৫ রেডিওকে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনা মোতায়েনসহ বেশ কিছু ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ’ ঘোষণা করা হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তোও সেনা মোতায়েনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সোমবার তিনি আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন একটি বিধান অনুমোদন করা হবে, যার আওতায় সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
এর আগে শনিবারের সহিংসতায় জড়িতদের ‘গুণ্ডা’ বলে আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তার অভিযোগ, একদল ব্যক্তি বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং পুরো শহরকে জিম্মি করে রাখছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেলোনি লেখেন, ‘বিক্ষোভ করা অধিকার। কিন্তু আমাদের শহরগুলো ধ্বংস করা নয়।’
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ, চাপে মেলোনি সরকার
ইতালিজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কৃষক এবং ট্রাকচালকেরা। অর্থনৈতিক চাপ ও জনজীবনের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভের মধ্যেই এসব আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে।
আগামী বছর নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের জন্য অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। মিলানের সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং তা মোকাবিলায় সরকারের সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এনএনবাংলা/
