রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিধান কার্যকরের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার দুই দিন আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে ট্রাম্প বলেন, তার এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে এ বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বুঝে নেব, আপনারাও জানতে পারবেন। এটি একটি খুব ভালো সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ভালো হবে, এমনকি বিশ্বের জন্যও ভালো হবে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন, এসব অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু রাশিয়ার ওপর নয়, আরও কয়েকটি দেশের ওপরও পড়বে।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাত জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনা স্থগিত হওয়াকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
জেলেনস্কি মন্তব্য করেন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ পুতিনকে পুরস্কৃত করার শামিল।
গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ও ইরানের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে প্রণীত ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ শীর্ষক আইনটিতে প্রেসিডেন্টকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওই আইনে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছিল।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সমর্থকদের অর্থের জোগান বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এসব পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ পদক্ষেপকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা রয়েছে।
টিলিস লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই জ্বালানির দাম কমাতে চান, তাহলে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেখানোর পরিবর্তে ইরান-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারেন।’
ক্রেমলিনপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশ দেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এনএনবাংলা/এফএস
