ফ্রান্স-স্পেনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি ও পর্তুগাল

ফ্রান্স ও স্পেনের পর এবার ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসন সংকটবিরোধী বিক্ষোভ। ইতালির মিলানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে তাঁবু শিবির গড়ে তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। দ্য গার্ডিয়ান এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইতালির মিলানে স্থানীয় সময় শনিবার প্রথমে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পাথর ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করেন। এ সময় বারের টেবিল দিয়ে তৈরি একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লাপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকার সবার রয়েছে, তবে শহরে আগুন দেওয়ার অধিকার কারও নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে বিক্ষোভকে ব্যবহার করেছে।

শনিবার পর্তুগালের লিসবনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে শতশত তরুণ-তরুণী। ছবি: এএফপি
এদিকে পর্তুগালের লিসবনে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার রাতে শহরের দর্শনীয় স্থান রসিও স্কয়ারে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পদযাত্রা করেন। তাদের অনেকে রাতভর অবস্থানের জন্য সেখানে তাবু স্থাপনের প্রস্তুতি নেন। কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনেও একই ধরনের তাবু শিবির গড়ে তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
লিসবনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখা মানুষদের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার এখন সংকটের মুখে। বাড়িভাড়া নিয়ে সরকারের নীতির সমালোচনা করে ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার চেয়ে বাড়ির মালিকদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসন ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দারা। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষের প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাজধানীর মহানগর এলাকায় বসবাস করেন।
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো বলেছেন, জনগণের ক্ষোভের কারণ তিনি বুঝতে পারছেন। তবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এনএনবাংলা/
