শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ভবনে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস থাকবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ে তিনটি বেজমেন্ট, প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, একটি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন। এ সংকট মোকাবিলায় নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে স্থাপত্য অধিদপ্তর এর ধারণাগত নকশা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়। ফাইল ছবি
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে অধ্যাদেশ
মন্ত্রিসভায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এর লক্ষ্য আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ জন্য সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অধ্যাদেশে বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেবা গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন
বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।
রটারডাম কনভেনশনে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন
বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গৃহীত এবং ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হওয়া এ আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে বিপজ্জনক রাসায়নিকের আমদানি-রপ্তানিতে পূর্বসম্মতিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত হলে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যভান্ডার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
এনএনবাংলা/
