সাম্প্রতিক
Skip to content

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

ছবি: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে তীব্র সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত নতুন হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নতুন করে ইরানে হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে।

ইরানে হামলার প্রস্তুতি জোরদার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের
সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী মহড়া বাড়িয়েছে। ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে হামলার কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়বে। এতে প্রায় আট মাসের সংঘাতের পর তেহরানকে কূটনৈতিক সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন কিছু কর্মকর্তা।

হামলার অনুমোদন দেবেন কি ট্রাম্প?
নতুন হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চলতি বছরেই বড় ধরনের সংঘাতের কয়েকটি পরিকল্পনা আটকে দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি চলতি মাসের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে একটি অভিযান বাতিল করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগের সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর নতুন করে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কতটা সামরিক ও কৌশলগত সাফল্য পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়ালে তার রাজনৈতিক প্রভাব এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
এদিকে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার জবাব আরও বিস্তৃত হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, এবার পাল্টা আক্রমণ শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোয় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবলও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে।

ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটন অভিযান শেষ করতে পারবে—এমন ধারণা অবাস্তব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ইরানের প্রতিরোধ হবে আরও তীব্র, কৌশলগত এবং ভিন্নধর্মী।

তেহরানের বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শুরুর দিকে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি মোতায়েন পূর্ণ রূপ পেতে পারে। এই সামরিক উপস্থিতি সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে সামনে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরাইলে ২৭ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন—দুটিই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সময় নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযান ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো নেই।

এনএনবাংলা/