আবার চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ কি ফিরছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এ কর্মসূচির নিবন্ধন শিগগিরই শুরু হতে পারে। তবে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবেদন গ্রহণ করতে হবে। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচিটির নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণেই এ বিলম্ব হয়। দীর্ঘদিন নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর নির্দেশ এলেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। দেশভিত্তিক যোগ্যতার তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সাধারণত সেই দেশের নাগরিকেরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন না। বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের ডিভি কর্মসূচিতে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ডিভি লটারিতে কোন দেশগুলো অংশ নিতে পারবে, সেই তালিকা কর্মসূচিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ এবার যোগ্য দেশের তালিকায় ফিরবে কি না, তা জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
ডিভি লটারি কী, ভিসা পাওয়ার শর্ত কী?
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের আওতায় চালু হয় ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি। এর উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো দেশের নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করা।
এ কর্মসূচিতে প্রতিবছর প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। তবে নির্বাচিত হওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্ধারিত কর্মঅভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের অন্যান্য যোগ্যতাও যাচাই করা হয়।
আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়াতে পারে। এ সুযোগে ভুয়া ওয়েবসাইট বা ব্যক্তি আবেদন করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা চাইতে কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
তাই বাংলাদেশিদের আবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। নিবন্ধন, যোগ্য দেশের তালিকা ও আবেদনের নিয়ম জানতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, আদালতের নির্দেশে ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর পথ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ্য দেশের তালিকা প্রকাশের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এনএনবাংলা/
