সাম্প্রতিক
Skip to content

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, মরদেহ হস্তান্তর আজ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে নিখোঁজ তালিকায় থাকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭) নামে এক নারীর পরিচয় উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ডিএনএর সঙ্গে মেলেনি।

নিহতদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ছয় ও চার সদস্য রয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার লাশ হস্তান্তরের পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। ওই দিন মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে। নিহত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ছয় ও চারজন সদস্য রয়েছেন।

এক পরিবারের চার সদস্য হলেন ঢাকার শ্যামলীর ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), তাদের আরেক কাজিন ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নাফিস তেহামি জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস’ বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান,আজ মঙ্গলবার মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। তাদের ডিএনএ স্যাম্পলেই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। সেদিন রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১১ জনের নাম ছিল।

নিখোঁজের তালিকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) অবস্থান এখনো অজানা। নাসরিন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে তিনি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর বাবার নাম মোস্তফা কামাল। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল।

অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমে রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। ফলে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ও নিখোঁজের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মুক্তার ডিএনএ না মেলার তথ্য সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এনএনবাংলা/এফএস