সাম্প্রতিক
Skip to content

প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসে রঙিন কক্সবাজারের আকাশ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা।  তিন দিনব্যাপী এ উৎসব ঘিরে কক্সবাজারের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। 

আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু করে তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত পালনের। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘকে দান এবং বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। বিহারগুলোতে প্রজ্জ্বলিত করা হয় শত শত প্রদীপ, যা জ্ঞানের আলোয় অন্ধকার দূর করার প্রতীক।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) বুদ্ধপূজা, শিবলী পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, কর্মদেশনা, ধ্যান অনুশীলন, প্রার্থনা, হাজারো প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস ওড়ানোর আয়োজন করা হয়। সোমবার প্রবারণা পূর্ণিমার দ্বিতীয় দিনে আকাশে ওড়ানো হবে শত শত রঙবেরঙের ফানুস। ২৬ অক্টোবর রামুতে এবং ২৭ অক্টোবর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কল্পজাহাজ ভাসানোর মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।

নগরীর বৌদ্ধবিহার গুলোতে সকাল থেকেই পুণ্যার্থীদের পদচারণের পাশাপাশি দিনব্যাপী পূজা ও ধর্মদেশনা শেষে সন্ধ্যার পর আকাশ ছেয়ে গেছে রঙিন ফানুসে।উৎসব ঘিরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী অগ্গমেধা ক্যাং ও মাহাসিংদ্রোগী বিহার। বিকেল থেকেই বিহার প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা।

কক্সবাজার শহরের অগ্গমেধা বৌদ্ধ বিহার, পিটাকেট, মোহাজের পাড়া বৌদ্ধ বিহার, জাদিরাং বিহার এবং রাখাইন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো প্রায় ৫০টি নান্দনিক প্যান্ডেল তৈরি করেছে। প্যান্ডেলগুলোর মূল আকর্ষণ বুদ্ধের প্রতিকৃতি।  বর্ণিল আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে উঠেছে। প্রবারণা ঘিরে বৌদ্ধপল্লির ঘরে ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

শহরের মোহাজের পাড়া, বাজারঘাটা, বৈদ্যঘোনা ও জাদিরাম বৌদ্ধ বিহারসহ মহেশখালী, উখিয়া, চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়িতেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হচ্ছে।

কক্সবাজার রাখাইন একতা সংঘের সভাপতি উসেন থোয়েন (উসেনমি বাবু) বলেন, প্রবারণার মূল প্রতিপাদ্য আত্মশুদ্ধি, শুভ, সত্য ও সুন্দরকে বরণ করে অসত্য ও অসুন্দরকে বর্জন করা। তিনি কামনা করেন, মানুষের অন্তর থেকে সব মলিনতা দূর হয়ে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, প্রেম ও দয়া জাগ্রত হোক।

কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক মং এ খেন বলেন, প্রবারণা উপলক্ষে সব ধর্মের মানুষ বিহারগুলোতে আসছেন। এতে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে। মূলত আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাব্রত শেষে এ প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে কঠিন চীবর দানোৎসব। আজকের দিনে ফানুস উড়িয়ে বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি।

এনএনবাংলা/এফএস