সাম্প্রতিক
Skip to content

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণ-রুপার সঙ্গে মিলল রহস্যময় চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে এক ভরির বেশি স্বর্ণ, তিন ভরির বেশি রুপা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংবলিত চিঠি। এসব চিঠির মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা রাজনীতি সংস্কারবিষয়ক একটি বেনামি আবেদন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের অর্থ ও সামগ্রী গণনা শেষে এসব তথ্য জানা যায়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া গণনা কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথভাবে তদারকি করেন। পরে বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন আনুষ্ঠানিকভাবে গণনার ফলাফল প্রকাশ করেন।

তারেক রহমানকে লেখা চিঠিতে কী আছে?
দানবাক্সে পাওয়া চিঠিগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রমী আবেদনটি লেখা হয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে। চিঠিতে প্রেরকের নাম-পরিচয় উল্লেখ না করে বিএনপির কর্মী ও সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আবেদন অনুযায়ী, বিএনপির কর্মী হতে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫ এবং সদস্য হতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫ অর্জনের বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই কোনো কিশোরকে রাজনৈতিক দলে যুক্ত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, ‘আই ওয়ান্ট দ্য চেঞ্জ টু কাম থ্রু ইউ’—অর্থাৎ, ‘আমি চাই, আপনার মাধ্যমে পরিবর্তন আসুক।’

স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে
এবারের গণনায় নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা ছাড়াও এক ভরির বেশি স্বর্ণ, তিন ভরির বেশি রুপা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাজারে মানত করা শতাধিক গরু-ছাগলের হিসাবও তুলে ধরা হয়।

দানবাক্সে পাওয়া বিভিন্ন চিঠিতে নানা ধরনের দাবি-দাওয়া ও আবেদন জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজনীতি সংস্কার নিয়ে লেখা বেনামি চিঠিটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

চার দফায় জমা হয়েছিল ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা
দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ১৮ জুন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারে নতুন সিলগালাকৃত দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে নির্দিষ্ট বিরতিতে দানবাক্স খোলার মাধ্যমে অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

এর আগে চার দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল—

  • ২২ জুন: ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা
  • ১১ জুলাই: ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা
  • ১৫ আগস্ট: ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর: ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা

এই চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

দান করা অর্থ ব্যয়ের নতুন নীতিমালা
মাজারে পাওয়া দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, মোট দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজে ব্যয়ের জন্য সোনালী ব্যাংকের যৌথ হিসাবে রাখা হবে। অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

নতুন ব্যবস্থাপনায় দানের অর্থের একটি অংশ উন্নয়নকাজে সংরক্ষণ এবং বাকি অর্থ নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/