Skip to content

LIVE 15'
Iraq
0-0
Norway
Source: ESPN

সিলেটে জমে উঠেছে পুজার বাজার চলছে কেনাকাটা

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট :

আগামী ২০ অক্টোবর মহাযষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার এ উৎসবকে ঘিরে সিলেটে জমে ওঠেছে পূজার বাজার। পূজার দিন-ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় নগরীর শপিংমল ও মাকের্টগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতারা ভিড় করছেন।

সরেজমিন সিলেট নগরীর মহাজনপট্টি, শুকরিয়া মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, মধুবন সুপার মার্কেট, ব্লুওয়ার্টার শপিং সিটি, সিটি সেন্টার, হাসান মার্কেট, ও নগরীর বিভিন্ন ব্রান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতা সাধারণের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।কাপড় ও জুতার দোকানগুলোতে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা পূজার কেনাকাটা করছেন। তবে বিপণিবিতানগুলোতে নারী ক্রেতাদের পাশাপাশি শিশুদের উপস্থিতি বেশি। সামর্থের মধ্যে পছন্দের জামা, কাপড়, শাড়ি, জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রী কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন সবাই। নগরীর নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ার অভিজাত বিপনি বিতান ও শপিং মলে ও রুচিশীল ক্রেতা সাধারণের ভীড় কিছুটা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের পূজাতে হিন্দু নারীরা সবচেয়ে বেশি কিনছেন শাড়ি। আর পুরুষরা কিনছেন পাঞ্জাবী। তাই রেডি ও আনরেডি থ্রিপিচের দোকানের চেয়ে শাড়ি ও পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনা-গোনা বেশি। বিশেষ করে নগরীর মহাজনপট্টি ও হাসান মার্কেটে নারীদের ভীড় লক্ষণীয়।

নগরীর মহাজনপট্টির একটি দোকানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা ঝুমা রানী বলেন, পূজা উপলক্ষে প্রায় সব দোকানেই পছন্দসই পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। তবে দামটা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। দাম যাই হোক কেনা কাটা করেই তিনি যাবেন বলে জানান।

স্কুল শিক্ষিকা পাপড়ী রাণী বলেন, পূজাতে নারীদের শাড়িই পছন্দ বেশি। তাই একটি জামদানী অথবা কাতান শাড়ি কিনতে মার্কেটে এসেছি। সাথে বাচ্চাসহ পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা করবো।
কলেজ ছাত্রী দিপ্তী পাল জানান, থ্রি-পিস পড়ে সহজেই চলাফেরা করা যায়। তাই পূজা উপলক্ষে এবার তিনি দুটি থ্রি-পিস কিনেছেন।

সিলেট মিলেনিয়াম শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি মোঃ সিরাজ উদ্দিন বলেন, এবার পূজা উপলক্ষে অনেক ক্রেতা আসছেন। গত ৩-৪ দিন যাবৎ বেচাকেনা খুব ভালো হচ্ছে । সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিক্রির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি নিয়াজ মোঃ আজিজুল করিম বলেন,আসন্ন দুর্গাপুজা উপলক্ষে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। পুজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে কেনাকাটা তত বেশি জমে উঠছে। বিগত সময়ের তুলনায় এবছর বেচা বিক্রি একটু বেশি হচ্ছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে পুজা উপলক্ষে হাসান মার্কেট শুক্রবার ও খোলা থাকায় সহজেই ক্রেতা সাধারণ কেনাকাটা করতে পারছে।

পূজায় নিরাপত্তা বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‌ ‘শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটি মন্ডপে সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ সহ সাদা পোষাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তাছাড়া কোনো ঝামেলা ছাড়া ব্যবসায়ীরা যেন ব্যবসা করতে পারেন ও কাপড় কিনতে আসা ক্রেতারা শপিং করে বাড়িতে ফিরতে পারেন সে জন্য আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগরে ৬১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।