Skip to content

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল, বাড়ছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি

কুড়িগ্রামে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি সামান্য কমলেও ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ দিন ধরে উজানের ঢল ও প্রবল বৃষ্টির কারণে এসব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২০ সে. মি কমে বিপৎসীমার মাত্র ৪১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, দুধকুমার নদের পানি ১৩ সে. মি কমে বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়াও ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ৫ থেকে ১০ সে. মি বেড়ে বিপৎসীমার ৫০-৬০ সে. মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এসব নদনদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে অস্থায়ী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার বসবাসরত মানুষজন নতুন করে বন্যায় ক্ষতির আশংকা করছেন। বন্যা পরিস্থিতিতে কৃষকরা অনেকে আমন বীজতলা ও সদ্য রোপন করা আমন ক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পূর্বের আমন ও সবজির ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায়তারা ভেবে পাচ্ছেন না তারা কী করবেন।

এদিকে, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি কমে যাওয়ায় এ দুটি নদনদী অববাহিকায় নদী ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে। রাজাহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তৈয়বখা ও রামহরি এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

এ ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, একদিকে বন্যা আরেকদিকে নদী ভাঙন আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। পরপর তিনবারের বন্যা তিস্তা নদী এলাকায় দেখা দিলে আমাদের আমন বীজতলাসহ শাক সবজির ব্যাক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে, নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের পাড়ের কচাকাটার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া জানান, দুইবারের বন্যায় পটল, ঢেঁড়স, শসা ও শাকসবজি সহ ক্ষেত তলিয়ে যায়, সাথে আমন বীজ তলা ডুবে যায়। কষ্ট করে নতুন করে আবার সবজি লাগিয়েছি কিন্তু বারবার বন্যা আমাদের অনেক ক্ষতি করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি কমছে কিন্তু অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্রের দুইটি পয়েন্টে এবং ধরলার দুইটি পয়েন্টে পানে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণ না থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টায় আবারও তা কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এনএনবাংলা/