সাম্প্রতিক
নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী দিল্লিতে শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল, নেপথ্যে কী? দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হাতছাড়া মমতার ব্যবসায়ীদের চাপে ‘গুজরাটের ইলিশ’ আমদানি, জানত না মন্ত্রণালয় বাজারে উধাও ১ লিটারের সয়াবিন, খোলা তেলের দামও চড়া গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়া বিএনপি এখন তা চায় না: নাহিদ ইসলাম পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট: সরকারি ভোজ নিষিদ্ধ ও বিয়ের দাওয়াতে এক পদ গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৯ মার্চ লবণাক্ততায় হারাচ্ছে সুন্দরবনের ঔষধি গাছ, বিলুপ্তির পথে ভেষজ চিকিৎসা ও জ্ঞান
Skip to content

সরকারি নথিতে গুদামে লাখ লাখ টন, তবুও কৃষক পাচ্ছে না সার

ছবি: এআই সাহায্যে তৈরি

আমন মৌসুমে দেশে সারের জাতীয় মজুত ও বরাদ্দে ঘাটতি না থাকলেও মাঠপর্যায়ে সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না, আবার কোথাও সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কয়েকটি এলাকায় সড়ক অবরোধ, হট্টগোল এবং ডিলারের গুদাম ভাঙার ঘটনাও ঘটেছে।

সরকারি হিসাবে, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন। পাশাপাশি ১ লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন হয়েছে।

তারপরও মাঠে কেন সংকট—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে আসছে বিতরণব্যবস্থার নানা সমস্যা। কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিলেই সার মিলছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। প্রয়োজন অনুযায়ী একসঙ্গে সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ডিলারদের দাবি, চাহিদার তুলনায় তাদের বরাদ্দ কম। যতটুকু সার পাচ্ছেন, নিয়ম মেনেই তা বিক্রি করছেন তারা।

কুড়িগ্রামে একই ধরনের পরিস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৭ সেপ্টেম্বর রৌমারীতে সার বিতরণে দেরিকে কেন্দ্র করে কৃষকেরা ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। ভূরুঙ্গামারীতে সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ ও এক কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনাও ঘটে। ১৬ সেপ্টেম্বর রাজীবপুরে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়ার অভিযোগে উত্তেজনা তৈরি হয়।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ইউরিয়া ৪ হাজার ৬৪৪ টন, ডিএপি ১ হাজার ৯২১ টন, টিএসপি ৮০২ টন ও এমওপি ১ হাজার ৩২৬ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগের পর আরও ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রাজশাহীতে গুদামে সার থাকার পরও কৃষকের কাছে না পৌঁছানোর অভিযোগে এক ডিলারের গুদাম থেকে ৮১৭ বস্তা এবং অন্য জায়গা থেকে ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে সারের সামগ্রিক সংকট নেই; কিছু এলাকায় বিতরণ পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে সার সরবরাহ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রয় তদারকিতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে ৬৪ জেলার চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সব মিলিয়ে জাতীয় পর্যায়ের মজুতের হিসাব পর্যাপ্ত হলেও প্রশ্ন উঠছে গুদাম থেকে মাঠ পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে। সময়মতো সার না পেলে আমন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি দামে সার কিনে কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। তাই শুধু জাতীয় মজুত নয়, এলাকাভিত্তিক বরাদ্দ, ডিলারদের গুদামে মজুত এবং কৃষকের কাছে বিক্রির তথ্যও স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি উঠছে। মূল প্রশ্ন এখন একটাই—গুদামে থাকা সার কৃষকের হাতে পৌঁছানোর পথে কোন ধাপে তৈরি হচ্ছে সমস্যা?

এনএনবাংলা/