সাম্প্রতিক
নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী দিল্লিতে শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল, নেপথ্যে কী? দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হাতছাড়া মমতার ব্যবসায়ীদের চাপে ‘গুজরাটের ইলিশ’ আমদানি, জানত না মন্ত্রণালয় বাজারে উধাও ১ লিটারের সয়াবিন, খোলা তেলের দামও চড়া গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়া বিএনপি এখন তা চায় না: নাহিদ ইসলাম পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট: সরকারি ভোজ নিষিদ্ধ ও বিয়ের দাওয়াতে এক পদ গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৯ মার্চ লবণাক্ততায় হারাচ্ছে সুন্দরবনের ঔষধি গাছ, বিলুপ্তির পথে ভেষজ চিকিৎসা ও জ্ঞান
Skip to content

গবেষণা

দুই বছরে ইলিশ উৎপাদন কমেছে ১২ শতাংশের বেশি, বাড়ছে উদ্বেগ

ফাইল ছবি

দেশে গত দুই বছরে ইলিশের উৎপাদন ১২ শতাংশের বেশি কমেছে। গভীর সাগরে সোনার স্ক্যানার যন্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার, সাগর-নদীর মোহনায় অসংখ্য জাল, নদী দূষণসহ নানা কারণে ইলিশের উৎপাদন কমছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে গভীর সাগরের রূপালি ইলিশের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ডিম ছাড়ার পর জাটকা হয়ে ওঠা পর্যন্ত ইলিশের একটি বড় অংশ মিঠাপানিতে থাকে। ইলিশের শরীরে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ওমেগা-৩ এটিকে অন্যান্য মাছের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

মিয়ানমার, ভারত, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকাতেও ইলিশ পাওয়া যায়। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়ার চীন সাগরের মোহনাঞ্চলে চন্দনা ইলিশ ও গুরতা ইলিশের বিচরণ রয়েছে।

মিঠাপানির প্রাচুর্য ও অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে গত এক দশক ধরে বিশ্বের মোট ইলিশ আহরণের প্রায় ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হচ্ছে। ২০১৬ সালে দেশে প্রায় পৌনে ২ লাখ টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় পৌনে ছয় লাখ টনে পৌঁছায়। তবে এরপর থেকেই উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

গবেষকদের মতে, ইলিশ শিকারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গভীর সাগরে সোনার স্ক্যানার ব্যবহার করে দেড় থেকে তিন কেজি ওজনের মা ইলিশের ঝাঁক শনাক্ত করে নির্বিচারে শিকার করা হচ্ছে। এতে মাছের বেঁচে থাকার সুযোগও কমে যাচ্ছে।

এ ছাড়া উজানে অসংখ্য জাল পাতা, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ, নদী দূষণ এবং নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠার কারণেও ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমছে। সোনার স্ক্যানার দিয়ে যখন ইলিশের ঝাঁক শনাক্ত করে ধরা হচ্ছে, তখন মাছের বেঁচে থাকার সুযোগ একেবারেই থাকছে না। উৎপাদন কমার এই ধারা অব্যাহত থাকলে এটি মারাত্মক একটি সংকেত।

উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে এরই মধ্যে ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। গত বছর মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ২৫ টন ইলিশ আমদানি করা হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ৫ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে সাগর ও নদীতে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভরা জোয়ারের সময়ে নদীতে ইলিশের মজুদ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

এনএনবাংলা/