সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ছুরিকাঘাতের পর পেট্রোল ঢেলে আগুন, ওষুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

 

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস আর নেই। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার তিলই এলাকায় দুর্বৃত্তরা খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তার শরীরে পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার কেউরভাঙা বাজারের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কাজও করতেন।

খোকন দাসের ভাগনিজামাই প্রান্ত দাস জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে খোকন চন্দ্র ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার ভোরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে এবং সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা বর্তমানে শাহবাগ থানায় অবস্থান করছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে এবং আজই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বিধান সরকার জানান, খোকন চন্দ্র দাস নামের ওই রোগীর শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

আহত অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাস হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তির নাম পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তারা হলেন— কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭) এবং সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি হলেন স্থানীয় শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।

ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নিহত খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস মামলার বাদী হন। মামলায় তিন তরুণকে আসামি করা হয়েছে।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে শাহবাগ থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ